উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছে বহুস্তরীয় ঘন মেঘে ঢেকে রয়েছে এই অঞ্চলগুলি। আবহাওয়াবিদদের মতে, এমন বৃহৎ মেঘসঞ্চয় সাধারণত বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতার প্রবেশ এবং অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয় - যা বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 April 2026 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ আকাশ জুড়ে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ঘন মেঘের (1,000 Km Cloud) বিস্তার ধরা পড়েছে উপগ্রহচিত্রে। আবহাওয়া দফতরের (Weather Update) তরফে প্রকাশিত এই ছবি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ, কারণ এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে এক সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে আসন্ন বৃষ্টি ও ঝড়ের। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং সংলগ্ন পাকিস্তানের উপর দিয়ে যে ঘন মেঘপুঞ্জ ছড়িয়ে রয়েছে তা পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যার প্রভাব আগামী কয়েক দিনে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
পশ্চিমী ঝঞ্ঝা মূলত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন একটি নিয়মিত আবহাওয়াগত ঘটনা, যা সময়ে সময়ে উত্তর ভারতে বৃষ্টি নিয়ে আসে। এই মুহূর্তে সক্রিয় সেই ঝঞ্ঝাই জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের একাংশ জুড়ে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এর প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের দিকেও বিস্তৃত।
উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছে বহুস্তরীয় ঘন মেঘে ঢেকে রয়েছে এই অঞ্চলগুলি। আবহাওয়াবিদদের মতে, এমন বৃহৎ মেঘসঞ্চয় সাধারণত বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতার প্রবেশ এবং অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয় - যা বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।
আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই আবহাওয়াগত পরিবর্তন আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রপাত এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রবল বৃষ্টির দাপট। বিশেষ করে সমতল এলাকা এবং হিমালয়ের পাদদেশে শিলাবৃষ্টি এবং হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও কৃষক এবং মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বৃষ্টির জেরে মাঠে থাকা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি শহরাঞ্চলে জল জমা এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে, বিশেষ করে যদি স্বল্প সময়ের মধ্যে টানা ভারী বৃষ্টি হয়।
তবে এই বৃষ্টিপাত কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে উত্তর ভারতের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা থেকে। যদিও আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এই ব্যবস্থা কেটে যাওয়ার পর ফের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। এখন সব নজর রয়েছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও স্থানীয় আবহাওয়ার পারস্পরিক প্রভাবের দিকে। তার উপরই নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টির তীব্রতা ও বিস্তার। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য সকলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।