ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালে। তখন সন্দীপ তোমার বিহার রেজিমেন্টের ১২ নম্বর ব্যাটালিয়নে কর্মরত এবং পাঞ্জাবের আবোহর ক্যান্টনমেন্টে পোস্টেড ছিলেন। অভিযোগ, নিজের স্ত্রী শ্বেতাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন তিনি।

সন্দীপ তোমরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শেষ আপডেট: 31 March 2026 20:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানটান থ্রিলারকেও হার মানাবে এই বাস্তব। দীর্ঘ চার বছর ধরে পুলিশের (Police) চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন প্রাক্তন সেনা ক্যাপ্টেন (Army captain) সন্দীপ তোমার। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। রান্নার গ্যাসের (LPG Gas Booking) একটি সিলিন্ডার বুকিং এবং তার ডিজিটাল লেনদেনই ধরিয়ে দিল পলাতক এই আসামীকে। মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) পান্ধুরনা জেলা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পাঞ্জাব পুলিশ (Punjab Police)।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালে। তখন সন্দীপ তোমার বিহার রেজিমেন্টের ১২ নম্বর ব্যাটালিয়নে কর্মরত এবং পাঞ্জাবের আবোহর ক্যান্টনমেন্টে পোস্টেড ছিলেন। অভিযোগ, নিজের স্ত্রী শ্বেতাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন তিনি। ঘটনাটিকে আত্মহত্যার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করলেও ধোপে টেকেনি সেই যুক্তি। আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়। সেনাবাহিনী থেকেও তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। ফিরোজপুর সংশোধনাগারে থাকাকালীন ২০১৯ সালে জামিনে মুক্ত হন তিনি। কিন্তু ২০২২ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট তাঁর সাজা বহাল রাখলে আত্মসমর্পণ না করে গা ঢাকা দেন এই প্রাক্তন সেনা আধিকারিক।
সন্দীপের শ্বশুরের আবেদনের ভিত্তিতে পাঞ্জাব পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। এসপি আশওয়ান্ত সিংহের নেতৃত্বে শুরু হয় তল্লাশি। গত চার বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচয় গোপন করে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দাবার চাল পাল্টে দিল ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড (NAT-GRID)-এর সাহায্য। গোয়েন্দারা সন্দীপের পুরনো প্যান কার্ডের সূত্র ধরে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে তাঁর অ্যাকাউন্টের হদিস পান।
তদন্তে দেখা যায়, একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রতি মাসে তাঁর অ্যাকাউন্টে বেতন ঢুকছিল। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে মধ্যপ্রদেশের পাান্ধুরনা জেলার হদিস পায় পুলিশ। ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্ট খুঁটিয়ে দেখতেই নজর কাড়ে ভারত গ্যাসের একটি লেনদেন। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বুক করার জন্য টাকা মেটানো হয়েছিল ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই।
গ্যাস এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ জানতে পারে সেই ভাড়াবাড়ির ঠিকানা, যেখানে সিলিন্ডারটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এরপর মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সহযোগিতায় হানা দিয়ে পাকড়াও করা হয় সন্দীপকে। পঞ্জাব পুলিশের দাবি, প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহার এবং একটি সামান্য সিলিন্ডার বুকিংয়ের সূত্রই এই দীর্ঘ চার বছরের লুকোচুরি খেলার অবসান ঘটাল। ধৃত প্রাক্তন ক্যাপ্টেনকে ইতিমধ্যেই পাঞ্জাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
স্ত্রী হত্যার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামী এখন ফের শ্রীঘরের চার দেওয়ালের ভেতরে। আদালত ও পুলিশের এই সাফল্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে মৃতার পরিবার।