জয়পুরের সওয়াই মান সিং (এসএমএস) হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে তখন ভয়াবহ দৃশ্য- ধোঁয়া, আগুন আর আতঙ্কে ভরা (Jaipur Hospital Fire Accident)। মুহূর্তের মধ্যে একটি হাসপাতাল পরিণত হল মৃত্যুর ময়দানে।
.jpg.webp)
কী হয়েছিল জয়পুর হাসপাতালে
শেষ আপডেট: 6 October 2025 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার গভীর রাত। জয়পুরের সওয়াই মান সিং (এসএমএস) হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে তখন ভয়াবহ দৃশ্য- ধোঁয়া, আগুন আর আতঙ্কে ভরা (Jaipur Hospital Fire Accident)। মুহূর্তের মধ্যে একটি হাসপাতাল পরিণত হল মৃত্যুর ময়দানে। আগুন লেগেছিল হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)। সেখানে ভর্তি ছিলেন ১১ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, দাউ দাউ জ্বলতে থাকা হাসপাতালের বিছানাতেই শেষ নিঃশ্বাস নেন তাঁরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রাত ১১টা নাগাদ প্রথমে শর্ট সার্কিট হয়ে ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল কর্মীদের সতর্ক করেন, পাশাপাশি তাঁদের আশ্বাসও দেওয়া হয়, 'এটা স্বাভাবিক ব্যাপার, ঠিক হয়ে যাবে।' মিনিট কয়েকের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আইসিইউ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আগুন ও ধোঁয়া, শুরু হয় হুড়োহুড়ি। অভিযোগ, হাসপাতালের অ্যালার্ম বাজেনি, ফায়ার এক্সটিংগুইশার খালি ছিল, আর গেটটি বাইরে থেকে তালা বন্ধ অবস্থায় ছিল (Jaipur Hospital Fire Accident)।
পরিজনরাই তখন নিজেরা ঝাঁপিয়ে পড়েন বাঁচাতে। কেউ কাঁচ ভেঙে ঢোকেন, কেউ বিছানার চাদরে করে রোগীকে টেনে বার করেন। ধোঁয়ার মধ্যে তাঁদের চিৎকার, কাশির শব্দ আর ভয়ের কান্নায় ভরে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। পুলিশ কনস্টেবল হরিমোহন নিজের হাতে আগুন নেভানোর যন্ত্র দিয়ে কাঁচ ভেঙে কয়েকজনকে উদ্ধার করেন।
৫৫ বছরের রুক্মিণী কৌরের ছেলে জোগিন্দর ও শেরু সেই রাতের ভয়ের কথা বলতে গিয়ে কেঁপে ওঠেন, “আমরা দেখেছিলাম শর্ট সার্কিট হচ্ছে, বলেছিলাম ডাক্তারদের। কেউ শুনল না। তারপর ধোঁয়া বাড়তেই স্টাফরা পালিয়ে গেল।”
শেরু শেষবারের মতো মায়ের কাছে পৌঁছাতে আগুনে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরলেন মায়ের মৃতদেহ হাতে নিয়ে।
আরেক রোগী কুষ্মা দেবীকে কয়েক দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল রাতে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। ছেলে নরেন্দ্র কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "ওরা দরজা বন্ধ করে পালিয়ে গেল। আমরা কিছুই করতে পারিনি।"
ঘটনার পর হাসপাতালের ভেতর দেখা গিয়েছে ছড়িয়ে থাকা স্যান্ডেল, ভাঙা কাঁচ, পুড়ে যাওয়া আইসিইউ বেড—যেন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো দৃশ্য।
হাসপাতালের ট্রমা সেন্টার ইন-চার্জ অনুরাগ ধাকড় জানান, ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে তাঁর দাবি, কর্মীরা যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছিলেন রোগীদের বাঁচাতে।
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা।” ইতিমধ্যেই একটি উচ্চস্তরীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সেই রাতের পর এসএমএস হাসপাতালের করিডোরে এখনও রয়ে গেছে দগ্ধ গন্ধ, নীরবতা আর হারানোর আর্তনাদ একটি 'নিরাপদ' হাসপাতালের ভিতরেই হারিয়ে গেল আটটি প্রাণ।