২২ এপ্রিল বৈসরণ উপত্যকায় ঘটে সেই ভয়াবহ রক্তাক্ত হামলা। ২৬ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যাঁদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটকের ধর্ম জেনে তাঁদের নিশানা বানানো হয়েছিল। মা, স্ত্রী ও সন্তানদের সামনেই প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 October 2025 08:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটে গিয়েছিল ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড (Pahalgam Terror Attack)। ২৬ জন নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল পাকিস্তানপন্থী জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার সহযোগী সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা টিআরএফ। এরপর কেটে গিয়েছে পাঁচ মাস। তদন্ত চলছে। এবার সেই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল সাহায্যকারীকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ধৃতের নাম মহম্মদ ইউসুফ কাটারিয়া, বয়স ২৬ বছর, বাড়ি কুলগামে।
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, পহেলগাম হত্যাকাণ্ডে (Pahalgam Terror Attack) যুক্ত জঙ্গিদের সঙ্গে ইউসুফের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। চারবার তাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। এমনকি একসময় নিজের অ্যানড্রয়েড ফোনের চার্জারও দিয়ে দেন জঙ্গিদের হাতে। আশ্চর্যের বিষয়, সেই চার্জারই শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা দেয় তদন্তকারীদের হাতে। মোবাইল চার্জারের সার্কিট ও লোকেশন ট্র্যাক করেই এনআইএ ধৃতের অবস্থান শনাক্ত করে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই যুবক পেশায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন। পাশাপাশি এলাকার শিশুদের পড়াতেনও। কয়েক মাস আগেই লস্কর জঙ্গিদের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর, এরপর ধীরে ধীরে তাদের হয়ে কাজ করতে শুরু করেন। সূত্রের দাবি, জঙ্গিদের গোপন আস্তানার জায়গা দেখিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি, কুলগাঁওয়ের জঙ্গলের একটি গোপন পথ চিনিয়ে দিয়েছিলেন তিনিই।
২২ এপ্রিল বৈসরণ উপত্যকায় ঘটে সেই ভয়াবহ রক্তাক্ত হামলা। ২৬ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যাঁদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটকের ধর্ম জেনে তাঁদের নিশানা বানানো হয়েছিল। মা, স্ত্রী ও সন্তানদের সামনেই প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পাকিস্তানের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যান্ডেল ব্যান করে দেওয়া হয় ভারতে। এমনকি সেইসময় ভারতে থাকা পাক নাগরিকদের দেশে ফেরার 'ডেডলাইন' বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য সেই নির্দেশ কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।
কাশ্মীর পুলিশ ও সেনার যৌথ অভিযানে অগস্টে ‘অপারেশন মহাদেব’ চলাকালীন বিশাল অস্ত্রভান্ডার উদ্ধার হয়। সেই অস্ত্রের সূত্র ধরেই এনআইএ ইউসুফকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। আগেই জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবার তাদের সাহায্যকারী হিসেবে ওই যুবককেও হেফাজতে নেওয়া হল।
পহেলগাম হামলার পর গত ৭ মে ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিতে পাল্টা অভিযান চালায়। ধ্বংস করা হয় অন্তত ৯টি ঘাঁটি। পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তানও। কয়েকদিনের মধ্যেই সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা হলেও, দু'দেশের মধ্যে এখনও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েন ও উত্তেজনা বজায় রয়েছে।