৬০ বছরের ফতেমা বিবি প্রায় ৪৫ বছর ধরে চন্দননগরের কুঠির মাঠ এলাকায় থাকেন। তাঁর স্বামী-সন্তানও এদেশেই রয়েছেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 September 2025 22:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগাম জঙ্গি হামলার (Pahalgam Attack) পরই হুগলিতে (Hooghly) গ্রেফতার হয়েছিলেন এক পাকিস্তানি নাগরিক (Pakistan Citizen)। ফতেমা বিবি নামের সেই মহিলার জামিনের আবেদন খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সোমবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়।
৬০ বছরের ফতেমা বিবি প্রায় ৪৫ বছর ধরে চন্দননগরের (Chandannagar) কুঠির মাঠ এলাকায় থাকেন। তাঁর স্বামী-সন্তানও এদেশেই রয়েছেন। আদালতে তাঁর আইনজীবী জানান, ফতেমার জন্ম ভারতে। তিন বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি যান তিনি। পরে ১৯৮০ সালে পর্যটন ভিসায় বাবার সঙ্গে ভারতে ফিরে আসেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৫। দু’বছর পর চন্দননগরের বেকারি ব্যবসায়ী মুজফ্ফর মল্লিকের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। দম্পতির দুই মেয়েরও বিয়ে হয়ে গেছে।
তবে পুলিশের নথি অনুযায়ী, ভারতে ভিসায় আসার এক বছর পরই ফতেমা নিখোঁজ বলে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন ফতেমা। কিন্তু সেই আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে অন্তত হাউস অ্যারেস্টে রাখার আবেদনও জানান তিনি।
কিন্তু আদালত সেই আর্জি খারিজ করেছে। তবে কেন্দ্রকে দ্রুত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। পাশাপাশি জেলেই ফতেমার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ২৬ জন ভারতীয়কে গুলি করে হত্যা করেছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। এর পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সেনা 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযান করে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে। পাশাপাশি ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করে দেয়। এমনকী পাকিস্তানিদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
পাকিস্তান জঙ্গি হামলায় মদতের বিষয়টি স্বীকার না করলেও ভারতীয় গোয়েন্দারা এমন বহু তথ্য পেয়েছেন যেখানে তার প্রমাণ মিলেছে। সেই প্রেক্ষিতে বলাই যায়, বাংলায় গ্রেফতার হওয়া পাকিস্তানি মহিলার নাগরিকত্ব পেতে যথেষ্ট সমস্যা হবে। আর তিনি যা বলছেন তা যদি প্রমাণ না করতে পারেন, তাহলে আজীবন তাঁকে জেলেও থাকতে হতে পারে।