আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত এত ধীরগতিতে চলতে থাকলে গুরুতর মামলাতেও অভিযুক্তরা আইনের সুযোগ নিয়ে জামিন পাবেন।
.jpeg.webp)
পহেলগামের সেই অভিশপ্ত ঘটনাস্থল
শেষ আপডেট: 15 September 2025 00:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগাম ঘটনায় (Pahalgam incident) যুক্ত লস্কর-ই-তইবার শাখা সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)-এর অর্থ জোগানো ও সংগঠন প্রচারের অভিযোগে গ্রেফতার দুই অভিযুক্তকে ‘ডিফল্ট’ জামিন (default bail granted) দিল আদালত। জম্মুর বিশেষ NIA আদালতের বিচারপতি সন্দীপ গন্দোত্র বৃহস্পতিবার রায় দেন যে, তদন্তকারী সংস্থা ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল না করায় (NIA failed to submit chargesheet) অভিযুক্তদের আইনি অধিকার (legal right) অনুযায়ী জামিন দিতে বাধ্য আদালত।
শ্রীনগরের বাসিন্দা ইয়াসির হায়াত বৃহস্পতিবার এবং হান্ডওয়ারার বাসিন্দা শফাত ওয়ানি শনিবার জামিন পান। TRF-র অর্থ সংগ্রহ ও প্রচারের অভিযোগে এপ্রিল ও মে মাসে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলার দায় স্বীকার করে পরে সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করেছিল TRF।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত জানায়, UAPA-এর ধারা 43(D)(2)(b) অনুযায়ী ৯০ দিনের পর চার্জশিট দাখিল না হলে অভিযুক্তদের জামিন চাওয়ার অবিচ্ছেদ্য অধিকার থাকে, অপরাধ যতই গুরুতর হোক না কেন। বিচারক NIA-র আবেদনে উল্লেখিত কারণকে “অস্পষ্ট, পুনরাবৃত্তিমূলক ও দুর্বল” বলে অভিহিত করেন।
NIA-র অবস্থান
NIA যুক্তি দিয়েছিল, অভিযুক্তদের ফোন থেকে পাওয়া কল রেকর্ড (CDR) এখনও বিশ্লেষণাধীন। তাছাড়া, কয়েকজন সন্দেহভাজন সহযোগী পলাতক। আরও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া বিপুল তথ্য যাচাইয়ের জন্য আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
কিন্তু আদালত বলেছে, একই যুক্তি বারবার দিয়ে হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো যায় না। তাছাড়া ১১০ দিন হেফাজতে রাখার পরও মাত্র এক সপ্তাহ আগে এয়ারলাইন্সগুলিকে তথ্য চাওয়ার চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা আদালতের কাছে তদন্তের ধীরগতি (snail’s pace) হিসেবে বিবেচ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জামিনের শর্ত
ইয়াসির হায়াতকে ১৫টি শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে। জারি হয়েছে এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা। শুধুমাত্র অনুমোদিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হবে এবং তার IMEI নম্বর নিকটবর্তী থানার SHO ও তদন্তকারী অফিসারকে জানাতে হবে।
অন্যদিকে, শফাত ওয়ানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি TRF থেকে টাকা পেয়েছিলেন এবং হান্ডওয়ারায় সংগঠনের মতাদর্শ ছড়াচ্ছিলেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত এত ধীরগতিতে চলতে থাকলে গুরুতর মামলাতেও অভিযুক্তরা আইনের সুযোগ নিয়ে জামিন পাবেন।