নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের জারি করা দু’টি ল্যামিনেটেড ভোটার আইডি কার্ড। একটির মালিক সুলেমান শাহ, যার নাম লাহোর (NA-125) কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় রয়েছে।

নিহত তিন জঙ্গিই ছিল পাকিস্তানের নাগরিক
শেষ আপডেট: 4 August 2025 13:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে (Pahalgam) ২২ এপ্রিলের রক্তক্ষয়ী জঙ্গি হামলার প্রায় তিন মাস পর, ২৮ জুলাই শ্রীনগরের দাচিগামে ‘অপারেশন মহাদেব’-এ (Operation Mahadev) নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় তিন লস্কর-ই-তইবা জঙ্গি। এবার সেই ঘটনার তদন্তে উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ— নিহত তিন জঙ্গিই ছিল পাকিস্তানের নাগরিক (Pakistani) এবং তারাই পহেলগামের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কুশীলব।
নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের জারি করা দু’টি ল্যামিনেটেড ভোটার আইডি কার্ড। একটির মালিক সুলেমান শাহ, যার নাম লাহোর (NA-125) কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় রয়েছে। অন্যজন আবু হামজা, যিনি গুজরানওয়ালা (NA-79) কেন্দ্রের ভোটার।
এছাড়াও, ধ্বংসপ্রাপ্ত স্যাটেলাইট ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া একটি মাইক্রো-এসডি কার্ডে পাকিস্তানের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন সংস্থা (NADRA)-র বায়োমেট্রিক রেকর্ড মেলে তিনজনেরই আঙুলের ছাপ, মুখের ডিজিটাল ফর্ম ও পারিবারিক তথ্য। ঠিকানা হিসাবে দেখা গিয়েছে কাসুর জেলার চাঙ্গা মাঙ্গা ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কোইয়ান গ্রামের উল্লেখ।
তাদের ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে করাচিতে তৈরি জনপ্রিয় চকোলেট ‘ক্যান্ডিল্যান্ড’ ও ‘চোকোম্যাক্স’-এর মোড়ক। এসবও প্রমাণ করে, নিহতরা পাকিস্তান থেকেই ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল।
সন্ত্রাসবাদীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একে-১০৩ রাইফেলের স্ট্রিয়েশন মার্কস (চিহ্ন) মিলে গেছে ২২ এপ্রিল পহেলগামে ব্যবহৃত ৭.৬২x৩৯ মিমি শেলের সঙ্গে। ওইদিন, পিকনিক করতে আসা ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। এছাড়া, পহেলগামে পাওয়া এক ছেঁড়া শার্টে থাকা রক্তের ডিএনএ মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে দাচিগামে নিহত তিন জঙ্গির মৃতদেহের সঙ্গে— ফলে মিলেছে নিঃসংশয় প্রমাণ।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই তিন জঙ্গি মে ২০২২-এ গুরেজ সেক্টর দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। পাক-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে তাদের প্রথম রেডিও চেক-ইনও তখন ধরা পড়ে।
হামলার আগের দিন, ২১ এপ্রিল তারা বৈসরন উপত্যকার কাছে একটি মৌসুমি কুঁড়েঘরে (স্থানীয় ভাষায় ‘ঢোক’) রাত কাটায়। কাশ্মীরি দুই স্থানীয় বাসিন্দা, পরভেজ ও বশির আহমদ তাদের আশ্রয় ও খাবার দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
পরদিন, ২২ এপ্রিল দুপুর আড়াইটেয় বৈসরনে হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা পালিয়ে যায় দাচিগামের ঘন অরণ্যের দিকে। সুলেমান শাহের হাতে থাকা ‘গারমিন’ ব্র্যান্ডের জিপিএস ঘড়ি থেকে প্রাপ্ত লোকেশন ডেটাও হামলার সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া গুলির উৎসস্থলের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গেছে।