তিন জঙ্গিই দীর্ঘদিন কাশ্মীর উপত্যকায় গা-ঢাকা দিয়ে ছিল বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার লোকসভায় জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, গত সোমবার শ্রীনগরের দাচিগাঁও অরণ্য অঞ্চলে সেনা অভিযান চালানো হয়।

মৃত দুই জঙ্গি - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 July 2025 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগাম জঙ্গি হামলার (Pahalgam Attack) তিন মূলচক্রী কাশ্মীরেই (Jammu and Kashmir) লুকিয়ে ছিল। 'অপারেশন মহাদেব' (Operation Mahadev) অভিযানে তাদের খতম করেছে যৌথ বাহিনী। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ কমান্ডার হাসিম মুসা, যার নেতৃত্বেই ২২ এপ্রিলের হামলা সংগঠিত হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে বাকি দুই পাকিস্তানি নাগরিক হাবিব তাহির ও জিবরান। এদের সকলের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে।
তিন জঙ্গিই দীর্ঘদিন কাশ্মীর উপত্যকায় গা-ঢাকা দিয়ে ছিল বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) মঙ্গলবার লোকসভায় জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, গত সোমবার শ্রীনগরের দাচিগাঁও অরণ্য অঞ্চলে সেনা অভিযান চালানো হয়। সেনার ৪ প্যারা রেজিমেন্টের সদস্যরা একটি তাঁবুতে জঙ্গিদের বিশ্রামরত অবস্থায় দেখতে পান। কোনও পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না — তবে জঙ্গিদের চোখের সামনে দেখা মাত্রই গুলি চালান হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের।
এই অভিযানের সূত্রপাত ঘটে ১১ জুলাই বৈসরন অঞ্চলে একটি চিনা স্যাটেলাইট ফোনের সঙ্কেত ধরা পড়ার পর। এরপর গোয়েন্দা গোপন সূত্রে খবর পায়, জঙ্গিরা দাচিগাঁওয়ে আত্মগোপন করে রয়েছে। সেনা ও নিরাপত্তাবাহিনীর একাধিক দল গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাহাড়ি এলাকায় ঠান্ডা সহ্য করে টহল চালায়। ২২ জুলাই সেন্সরের মাধ্যমে জঙ্গিদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
সোমবারের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১৭টি গ্রেনেড, একটি মার্কিন তৈরি এম৪ কারবাইন ও দুটি একে-৪৭ রাইফেল। ফরেন্সিক রিপোর্টে প্রমাণ মিলেছে — এই অস্ত্রগুলিই পহেলগাম হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এদিন লোকসভায় বলেন, “এই তিনজনের পাকিস্তানি পরিচয় নিয়ে আমাদের কাছে অখণ্ড প্রমাণ রয়েছে। এদের মধ্যে দু’জনের পাকিস্তানি ভোটার কার্ড উদ্ধার হয়েছে। এমনকী ওদের সঙ্গে পাওয়া চকোলেটও পাকিস্তানে তৈরি।”
তিনি আরও জানান, এর আগে এনআইএ দুই কাশ্মীরি বাসিন্দা — পরভেজ আহমদ জোথার ও বশির আহমদকে গ্রেফতার করেছিল, যারা ওই জঙ্গিদের খাবার ও আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করেছিল। পরে জঙ্গিদের দেহ শনাক্ত করেন ওই দুই ধৃত।
ঘটনায় নতুন করে স্পষ্ট হল যে, উপত্যকায় জঙ্গি অনুপ্রবেশে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। অপারেশন সিঁদুর-এর পর পহেলগাম হামলার জবাবে কেন্দ্রের এই সফল প্রত্যাঘাত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।