ন্যাশনাল ওভারসিজ স্কলারশিপ (NOS) নামে এই আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয় প্রতিবছর। এবার ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ১০৬ জন পড়ুয়া নির্বাচিত হয়েছিল।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 7 July 2025 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তফসিলি জাতি-উপজাতি ও দরিদ্র মেধাবী ছাত্রদের ‘জলপানি’ বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এ বছর নির্বাচিত পড়ুয়াদের ৪০ শতাংশই বৃত্তি বা স্কলারশিপ পাচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের সাফাই যে, টাকা নেই। যদিও এবারেই প্রথম নয় যে, পিছিয়ে থাকা শ্রেণির পড়ুয়াদের ন্যায্য স্কলারশিপ বাতিল, বিলম্ব কিংবা বিভিন্ন ধরনের তালগোলে বাদ পড়ে গেল।
কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও সশক্তিকরণ মন্ত্রকের তরফে স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ডের প্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যাতে নির্বাচিতদের অর্ধেকের কম বা ১০৬ জনের মধ্যে ৪০ জন স্থান পেয়েছে। ন্যাশনাল ওভারসিজ স্কলারশিপ (NOS) নামে এই আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয় প্রতিবছর। এবার ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ১০৬ জন পড়ুয়া নির্বাচিত হয়েছিল।
মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বাকি ৬৬ জনের চিঠি পরে ইস্যু হতে পারে...স্কলারশিপের জন্য বরাদ্দ টাকা হাতে এলেই তা দেওয়া হবে। মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা অর্থ বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির অনুমোদন পায়নি। উল্লেখ্য, অর্থ বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির প্রধান হচ্ছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
গত ১ জুলাই মোদী সরকারের তরফে এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ক্রমিক সংখ্যা ৪১ থেকে ১০৬ পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রভিশনাল অ্যাওয়ার্ডের পত্র পরে ছাড়া হবে। তহবিল বা বরাদ্দ টাকা পেলেই বাকিদের জানানো হবে। প্রসঙ্গত, এনওএস কর্মসূচি চালু হয়েছিল ১৯৫৪-৫৫ সালে।
এনওএস কর্মসূচিতে তফসিলি জাতি, উপজাতি, অবিধিবদ্ধ যাযাবর জনজাতি, উপ যাযাবর জনজাতি, ভূমিহীন কৃষি শ্রমিক অথবা প্রাচীন শিল্পী-কারিগর শ্রেণিকে। যাদের পারিবারিক আয় বছরে ৮ লক্ষের কম। সাধারণত যতজনকে নির্বাচিত করা হয়, তাদের সকলকেই প্রভিশনাল স্কলারশিপের চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু, এবার ভাঁড়ার বাড়ন্ত হওয়ায় সকলকে একসঙ্গে চিঠি পাঠানো সম্ভব হয়নি।
স্কলারশিপের টাকা নিয়ে টানাপড়েন এটাই প্রথমবার ঘটল না। মৌলানা আজাদ জাতীয় ফেলোশিপ নিয়েও এরকম ঝকমারি হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে প্রায় ১,৪০০-র বেশি পিএইচডি গবেষক ছাত্রের স্কলারশিপের টাকা আটকে রয়েছে। গতবছরের ডিসেম্বর থেকে এ বছরের মে পর্যন্ত গবেষকরা অর্থ সাহায্য পাননি। কয়েকজনের তো তার আগে থেকেই টাকা আসা বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।
মৌলানা আজাদ ন্যাশনাল ফেলোশিপ চালায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক। মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ও পার্সি ধর্মের সংখ্যালঘু গবেষক ছাত্রদের এই প্রকল্পের অধীনে স্কলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও ন্যাশনাল ফেলোশিপ ফর শিডিউল কাস্টসের স্কলারশিপের টাকা নিয়েও তালগোল পাকিয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের জুন মাসের জায়গায় এ বছরের মার্চে মেধাতালিকা প্রকাশ হয়েছে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি প্রথমে ৮৬৫ জনের নাম প্রকাশ করলেও এপ্রিল মাসেই সংশোধিত একটি তালিকায় কাটছাঁট করে ৮০৫ জনের নাম প্রকাশ করা হয়।