এ বছরেই তিনজনের আত্মহত্যার সাক্ষী হয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত মে মাসেই একজন আত্মহত্যা করেন ক্যাম্পাস চত্বরে।

পড়ুয়াদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলবেন ক্যাম্পাস মাদাররা। প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 7 July 2025 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্য ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, খড়্গপুর (IIT, Kharagpur) পড়ুয়াদের (Students) জন্য বাড়ির পরিবেশ তৈরি করতে ও মন ভাল রাখতে অভিনব উদ্যোগ নিতে চলেছে। আইআইটি ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষিকা কিংবা অশিক্ষক মহিলা কর্মচারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘বিকল্প মা’ (Campus Mothers) হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যাঁরা ঘর ছেড়ে বিদেশবিভুঁইয়ে পড়ে থাকার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন বা হতাশায় কষ্ট পাচ্ছেন, তাঁদের মাতৃত্বের স্বাদ পৌঁছে দিয়ে মনের জোর ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করবেন এই নতুন মায়েরা। এর জন্য তাঁদের ‘ক্যাম্পাস মাদার’ হিসেবে মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দেবে কর্তৃপক্ষ।
আইআইটি খড়্গপুরে নতুন ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমকে একথা জানান। গত মাসে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। সুমনবাবু আইআইটিতে ছাত্রদের আত্মহত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ বছরেই তিনজনের আত্মহত্যার সাক্ষী হয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত মে মাসেই একজন আত্মহত্যা করেন ক্যাম্পাস চত্বরে।
আমরা যেভাবে একের পর এক মেধাবী পড়ুয়াদের অকালে হারাচ্ছি, তাতে আমি ও আমাদের সকল শিক্ষক খুবই আঘাত পেয়েছি। আমি মনে করি সমবেদনা প্রকাশ করার থেকেও জরুরি এখনই কোনও সক্রিয় পদক্ষেপ করা। যখনই কোনও ঘটনা ঘটে যায়, চতুর্দিক থেকে আওয়াজ ওঠে। কিছু প্রশাসনিক নড়াচড়া হয় কিন্তু তা যথেষ্ট নয়, বলেন সুমনবাবু।
ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে তাঁর পরিকল্পনার কথা জানান নতুন ডিরেক্টর। তিনি বলেন, ইনস্টিটিউট একটি ‘স্টুডেন্ট ওয়েলকাম কমিটি’ গঠন করেছে। এটা এক ধরনের ক্যাম্পাস ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচি। এই কমিটির প্রধান ভূমিকা হবে, নতুন বছরের ছাত্রছাত্রীদের ও তাঁদের বাবা-মাকে মানসিকভাবে সাহায্য করা। যাতে তাঁরা কখনই মনে না করেন যে, বাড়ির স্নেহ-ভালবাসা থেকে দূরে রয়েছেন। ক্যাম্পাসকেই যেন ঘরের মতো মনে করতে থাকেন। নবাগতদের যে যে সমস্যা হয়, এই কমিটি সেসব বিষয়েই নজর রাখবে, তাঁদের মনে জোর ফিরিয়ে আনবে।
‘ক্যাম্পাস মাদার’ কর্মসূচিতে মহিলা স্বেচ্ছাসেবী কর্মী ও শিক্ষিকাদের আলাদা করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাঁরা ভেঙে পড়া পড়ুয়াদের আবেগ, স্নেহ-ভালবাসা দিয়ে শক্তি জোগাবেন এবং প্রয়োজনে তাঁদের কোন পথে চলতে হবে, তা বাতলে দেবেন। এইসব মহিলাদের অনেকেই মা। তাঁরা জন্ম থেকে নিজেদের সন্তান লালনপালন করেছেন। অনেকের ছেলেমেয়েরাই বড় হয়ে গিয়েছে, কৈশোর পেরিয়েছে। সে কারণে এই মায়েরা জানেন ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন একাকিত্বের সময়ে তাদের কীভাবে পাশে দাঁড়াতে হয়। ফলে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত যে ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের যত্নে প্রতিপালিত হয়েছে, তারা প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েই একদিনে নিজের মতো বড় হয়ে উঠবে, এটা আশা করাই ভুল, বলেন ডিরেক্টর।
ক্যাম্পাস মায়েরা মনে করলে কোনও পড়ুয়াকে চা-কফি খাওয়াতে নিয়ে যেতে পারেন। কিংবা তাঁদের ডিনারে নেমন্তন্ন করতে পারেন। সেখানে সেই পড়ুয়ার মানসিক সমস্যা বোঝা ও তা মেটানোর চেষ্টা করবেন তাঁরা। কয়েকজনকে একসঙ্গে ডেকে আড্ডা, হাসি-মশকরার মাধ্যমে তাদের মনের উদ্বেগ, একাকিত্ব দূর করতে পারেন। আর এতেই একজন ছাত্রের মনের কষ্ট বেরিয়ে আসবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা আর কিছুদিনের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।