Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
জিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে!কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ড

কানপুরে অবৈধ NICU-তে আগুন লেগে মৃত্যু সদ্যোজাতের, বিক্ষোভের চাপে তড়িঘড়ি ইউনিট সিল করল প্রশাসন

পুলিশ জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথমে চিকিৎসকদের একটি প্যানেল তদন্ত করবে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কানপুরে অবৈধ NICU-তে আগুন লেগে মৃত্যু সদ্যোজাতের, বিক্ষোভের চাপে তড়িঘড়ি ইউনিট সিল করল প্রশাসন

প্রতীকী ছবি

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 9 February 2026 18:38

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের কানপুরে (Kanpur) এক বেসরকারি নার্সিং হোমে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অবৈধভাবে চলা নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (NICU)-এ আগুন লেগে মৃত্যু হল এক সদ্যোজাত কন্যাসন্তানের (Kanpur NICU fire newborn death)। এই ঘটনায় চরম গাফিলতি ও প্রমাণ লোপাটের (Hospital Negligence) চেষ্টার অভিযোগ তুলে শিশুটির পরিবার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার পর স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে জানা যায় NICU-টি বেআইনিভাবে চলছিল। সঙ্গে সঙ্গে সেটি সিল করে দেয় প্রশাসন (CMO seals ICU)।

ঘটনাটি ঘটে রবিবার সন্ধ্যায় কানপুর জেলার বিথুর এলাকার রাজা নার্সিং হোমে। অভিযোগ, NICU-তে থাকা একটি ওয়ার্মার মেশিনে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। সেই আগুনে সদ্যোজাত কন্যাসন্তানটি গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার জেরে নার্সিং হোমে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখান।

পরিবারকে জানানো হয়নি প্রসবের খবর, অভিযোগ

শিশুটির পিসি রিতু নিশাদ-এর করা লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, প্রসবের প্রায় আধ ঘণ্টা পরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারকে জানায়নি যে একটি কন্যাসন্তান জন্মেছে। পরিবারের দাবি, এক সাফাইকর্মীর কাছ থেকেই তারা প্রথম সন্তানজন্মের খবর জানতে পারে।

এর কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, NICU-তে আগুন লেগেছে এবং ধোঁয়ায় গোটা ওয়ার্ড ভরে গিয়েছে। বারবার জিজ্ঞাসা করার পর নার্সিং হোমের কর্মীরা জানান, রিতুর বোন শালু-র সদ্যোজাত সন্তানটি গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, শিশুটির মুখ, বুক ও পেট মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছিল। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক জানিয়ে তাকে দ্রুত কাকাদেও এলাকার একটি বেসরকারি শিশু নার্সিং হোমে পাঠানো হয়। তবে রিতুর দাবি, স্থানান্তরের আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

NICU বেআইনিভাবে চলছিল, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

এই ঘটনার পর চিফ মেডিক্যাল অফিসার (CMO)-এর দফতর থেকে একটি দল নার্সিং হোমে তদন্তে যায়। তদন্তে উঠে আসে, NICU-টি বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল। এরপরই প্রশাসনের তরফে ওই NICU তাৎক্ষণিকভাবে সিল করে দেওয়া হয়।

হাসপাতাল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে হাসপাতালের দরজা-জানালা ভাঙচুর করছেন। সেই সময় সহকারী চিফ মেডিক্যাল অফিসার (ACMO) রমিত রাস্তোগি-কে NICU সিল করতে দেখা যায়।

ওয়ার্মারে রেখে নজরদারির অভাব, ভয়াবহ পরিণতি

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় বিথুরের রাজা নার্সিং হোমে অরুণ তাঁর স্ত্রী শালুকে প্রসবের জন্য ভর্তি করান। একটি কন্যাসন্তান জন্মায়। অভিযোগ, নার্সরা জানান শিশুটির ঠান্ডা লাগছে এবং তাকে ওয়ার্মারে রাখা হয়। কিন্তু এরপর শিশুটির উপর নিয়মিত নজরদারি করা হয়নি।

হঠাৎ ওয়ার্মার মেশিন থেকে ধোঁয়া বেরোতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করেন। ততক্ষণে শিশুটিকে বের করার সময় সে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয় এবং পরে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

প্রথম সন্তান হারিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে পরিবার

এই শিশুটি ছিল দম্পতির প্রথম সন্তান। ফলে পরিবারের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। শিশুটির বাবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভাঙচুরের ঘটনার পর তদন্ত জোরদার

সোমবার তদন্তে দেরির অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ পরিবার হাসপাতাল চত্বরে ভাঙচুর চালায়। এরপরই CMO-র দল তদন্ত শুরু করে। 
পুলিশ জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথমে চিকিৎসকদের একটি প্যানেল তদন্ত করবে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


```