ভাগবতের অভিযোগ, ঘরে এখন বাংলা (Bangla), হিন্দি (Hindi), মারাঠি, তামিল নয়— আধা ইংরেজি-আধা মাতৃভাষার ‘মিশেল ভাষা’ চলে।

মোহন ভাগবত
শেষ আপডেট: 30 November 2025 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ভাষা-সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা যে চাপে পড়েছে, সে নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করলেন আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)।
ভাগবতের অভিযোগ, ঘরে এখন বাংলা (Bangla), হিন্দি (Hindi), মারাঠি, তামিল নয়— আধা ইংরেজি-আধা মাতৃভাষার ‘মিশেল ভাষা’ চলে। তাঁর মন্তব্য, “এমনকি সন্ন্যাসীরাও কখনও কখনও ইংরেজিতে কথা বলছেন।” তবে ইংরেজি-মাধ্যম স্কুলকে একা দায়ী করতে নারাজ আরএসএস প্রধান। তাঁর বক্তব্য, পরিবারই আগে ভাষার সঠিক ব্যবহার শেখাবে। না হলে ধারটাই হারিয়ে যাবে (Mohan Bhagwat)।
“যে সংস্কৃত একসময় বাণিজ্য-চর্চার ভাষা ছিল, আজ আমেরিকানরা শেখাচ্ছেন”
স্মৃতিচারণায় ভাগবত বলেন, কখনও সংস্কৃত ছিল ভারতের যোগাযোগ ও ব্যবসার মূল ভাষা। আজ সেই সংস্কৃতই ভারতীয়দের শেখাচ্ছেন মার্কিন প্রফেসররা— যা তাঁর কথায় “বিরোধাভাসের চূড়া”।
অনুবাদে ‘আত্মা হারানোর’ ভয়
মহারাষ্ট্রের সান্ত জ্ঞানেশ্বরের গীতাভাষ্য উদাহরণ দিয়ে ভাগবত বলেন, ভারতীয় দর্শনের বহু শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ নেই। তাঁর কথায়, “একটি ‘কল্পবৃক্ষ’-র ভাব অনুবাদে উধাও হয়ে যায়। এক জ্ঞানেশ্বরের একটি শব্দকে ইংরেজিতে বলতে হলে কয়েকটি শব্দ লাগে।”
জ্ঞান ও কর্ম— বিশ্বাসের দুই ডানা
গীতা উদ্ধৃত করে ভাগবত বলেন, ভারতীয় তত্ত্বে বিভেদের জায়গা নেই— সবকিছুর মূলে ‘এক’। আত্মস্বার্থ ছেড়ে পরিবার ও সমাজের মঙ্গলে নিজেকে নিয়োজিত করাই প্রকৃত ধর্মচেতনা। তাঁর মন্তব্য, “শুধু জ্ঞান, বিশ্বাসহীন হলে রাবণের পরিণতিই হয়।”
“ভারতীয় রাষ্ট্রীয়তা পশ্চিমী ‘ন্যাশনালিজম’-এর মতো নয়”
নাগপুরের জাতীয় বইমেলায় শনিবার ভাগবত বলেন, মতভেদ মানেই বিরোধ নয়। ভারতীয় রাষ্ট্রীয়তা কখনও সংঘাতকেন্দ্রিক ছিল না। “বিশ্বের নানা ‘ইজম’ লড়াই থেকে জন্মেছে। কিন্তু ভারত ‘ঝগড়া’ এড়ায়— আমরা ভ্রাতৃত্বে বিশ্বাসী।”
পশ্চিমী ‘nation-state’ ধারণার সঙ্গে ভারতের বহু সহস্রাব্দ পুরনো ‘রাষ্ট্র’ ভাবনার পার্থক্যও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, “ন্যাশনালিজম শব্দটি অনেকের কাছে যুদ্ধের স্মৃতি জাগায়। আমরা চাই ‘রাষ্ট্রীয়তা’, অহঙ্কার নয়।” ধর্ম–ভাষা–আচার— সব বৈচিত্র্যই ভারতের ঐক্যের শক্তি, আবারও মনে করান ভাগবত।
জ্ঞান, এআই এবং ‘বিশ্ব পরিবার’ ভাবনা
তথ্যের ভিড় নয়— জীবনের আসল প্রয়োজন ‘বুদ্ধি ও বিবেচনা’, জানালেন সঙ্ঘ প্রধান। মানুষের প্রকৃত সুখ, তাঁর মতে, অন্যের উপকারে। আধুনিক যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (AI) মানুষ ও সমাজের কল্যাণে প্রয়োগ করার কথাও বলেন তিনি।
বিশ্বায়নের সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে ভাগবতের দাবি, “বাস্তব বৈশ্বিকতা— ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’— ভারতের চিন্তায় বহু আগেই ছিল। বিশ্বের সামনে সেটাই আসল ভবিষ্যৎ।”