আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি অনুযায়ী, মুজাওয়ার সিনিয়র আধিকারিকদের নির্দেশ অমান্য করে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে গ্রেফতার করেননি, কারণ তিনি অভিযুক্তের কোনও ভূমিকা দেখতে পাননি।

মোহন ভাগবত ও মেহবুব মুজাওয়ার
শেষ আপডেট: 2 August 2025 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ (Malegaon Blast) মামলায় বিশেষ এনআইএ আদালত রায় ঘোষণা করার সময় এক প্রাক্তন অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড (ATS) আধিকারিকের বিস্ফোরক দাবি খারিজ করে দেয়। ওই আধিকারিক দাবি করেছিলেন, তদন্তকারী দলকে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে (Mohan Bhagwat) গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালত সেই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছে।
বিশেষ বিচারপতি এ কে লাখোটি প্রাক্তন এটিএস আধিকারিক মেহবুব মুজাওয়ারের আরও একটি দাবি— দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে মেরে ফেলা হয়েছিল— তাও খারিজ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে কোনও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ বা সাক্ষ্য নেই।
আদালত জানায়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩১৩ ধারায় রেকর্ড করা বিবৃতি সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা যায় না। মুজাওয়ারের জমা দেওয়া নথি আদালতের নথিপত্রে থাকলেও তাঁকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির করা হয়নি, ফলে তাঁর দাবি আইনগতভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি অনুযায়ী, মুজাওয়ার সিনিয়র আধিকারিকদের নির্দেশ অমান্য করে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে গ্রেফতার করেননি, কারণ তিনি অভিযুক্তের কোনও ভূমিকা দেখতে পাননি।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে একটি মোটরসাইকেলে রাখা বোমা বিস্ফোরণে ছয়জন নিহত হন। প্রথমে এটিএস এই মামলার তদন্ত শুরু করলেও পরে তা এনআইএ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই মামলার সাতজন অভিযুক্ত, যাঁদের মধ্যে বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞাও রয়েছেন, তাঁদের সবাইকেই বৃহস্পতিবার আদালত বেকসুর খালাস দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও "বিশ্বাসযোগ্য বা স্পষ্ট" প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রায়ের পরদিন মুজাওয়ার সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, তাঁরা মোহন ভাগবতকে গ্রেফতারের নির্দেশ পেয়েছিলেন এবং তিনি সেই আদেশ মানতে অস্বীকার করায় তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। আদালত জানায়, এই সংক্রান্ত কাগজপত্র একটি আলাদা মামলার অংশ এবং এই মামলার প্রেক্ষিতে প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না।
আদালত আরও জানায়, সেই সময়কার এসিপি মোহন কুলকর্ণী সাক্ষ্যে বলেন, মুজাওয়ারকে আরএসএস নেতার সন্ধানে পাঠানো হয়নি বরং পলাতক অভিযুক্ত রামজি কালসাংড়া ও সন্দীপ দাঙ্গেকে খুঁজে বার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আরএসএস নেতাকে নিয়ে কোনও সরকারি নির্দেশের কথা তিনি অস্বীকার করেন।
তৎকালীন ডিএসপি অনিল দুবেও আদালতে স্বীকার করেন যে, মুজাওয়ার এটিএস টিমের অংশ ছিলেন এবং তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্যের জন্য এনআইএ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তবে তিনিও হেফাজতে মৃত্যুর দাবিকে সমর্থন করেননি।
আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, মুজাওয়ারের নাম সাক্ষী তালিকায় ছিল না এবং তাঁকে সাক্ষী হিসেবে জেরা করা হয়নি। শুধুমাত্র কিছু নথি যথেষ্ট নয়, তা বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়।