Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলা: যোগীর নাম বলতে বাধ্য করেছিল অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড, জানালেন সাক্ষী

জোশিরাও ছিলেন সেই ৩৯ জন সাক্ষীর অন্যতম, যাঁরা পরে আদালতে নিজেদের বক্তব্য থেকে সরে আসেন। তাঁকে আনা হয়েছিল ‘অভিনব ভারত’ নামক সংগঠনের গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে, যাকে ওই বিস্ফোরণের মূলচক্রী বলে সন্দেহ করেছিল ATS।

মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলা: যোগীর নাম বলতে বাধ্য করেছিল অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড, জানালেন সাক্ষী

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 2 August 2025 12:15

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় সম্প্রতি সব অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করার পর প্রকাশ্যে এল এক সাক্ষীর বিস্ফোরক অভিযোগ। মুম্বইয়ের একটি বিশেষ আদালতে সাক্ষী মিলিন্দ জোশিরাও জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্রের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-এর আধিকারিকরা তাঁকে জোর করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)র নেতাদের নাম বলাতে চাপ দিয়েছিলেন। অভিযোগ, চাপ না মানায় তাঁকে অত্যাচারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

জোশিরাও ছিলেন সেই ৩৯ জন সাক্ষীর অন্যতম, যাঁরা পরে আদালতে নিজেদের বক্তব্য থেকে সরে আসেন। তাঁকে আনা হয়েছিল ‘অভিনব ভারত’ নামক সংগঠনের গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে, যাকে ওই বিস্ফোরণের মূলচক্রী বলে সন্দেহ করেছিল ATS। কিন্তু জোশিরাও আদালতে জানান, তৎকালীন আধিকারিক শ্রীরাও এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরমবীর সিং তাঁর উপরে প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, যোগী আদিত্যনাথ, অসিমানন্দ, ইন্দ্রেশ কুমার, দেবধর, সাধ্বী এবং ‘কাকাজি’র নাম নিলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে। রাজি না হলে চরম অত্যাচারের ভয় দেখানো হয়েছিল।

বিশেষ বিচারক একে লাহোটি নিজের পর্যবেক্ষণে বলেন, 'এই সাক্ষীর বয়ান ATS আধিকারিকরাই লিখেছেন এবং রেকর্ড করেছেন। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, বয়ানটি স্বতঃস্ফূর্ত নয়। তদন্তকারী অফিসার ওই বয়ান প্রমাণ করলেও, তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।'

৩১ জুলাই মুম্বইয়ের একটি বিশেষ আদালত মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত সাতজনকে বেকসুর খালাস করে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ATS-এর তদন্তে একাধিক গাফিলতি ছিল এবং মামলায় নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এরই মধ্যে এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন ATS আধিকারিক মেহবুব মুজাওয়ার জানান, সেই সময়কার এটিএস অফিসার পরমবীর সিং তাঁকে বলেছিলেন RSS প্রধান মোহন ভাগবত এবং অন্য শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করতে। ‘সন্ত্রাস’ শব্দের সঙ্গে হিন্দুত্ব জুড়ে দিতে এ ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি করাই ছিল লক্ষ্য।

মুজাওয়ার আরও বলেন, 'বিস্ফোরণের প্রায় এক মাস পরে, ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর তাঁকে আটক করা হয়। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এটিএস অফিসেই তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল।'

প্রসঙ্গত, ওই বিস্ফোরণের দায় শুরুতে ‘অভিনব ভারত’ নামক সংগঠনের ঘাড়ে চাপিয়েছিল স্কোয়াড। অভিযোগ ছিল, এই সংগঠনের নাকি উদ্দেশ্য ছিল ভারতের সংবিধান বাতিল করে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ গঠন। ওই ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছিলেন প্রজ্ঞা ঠাকুর, কর্নেল পুরোহিত-সহ অনেকে। পরিকল্পনা ছিল গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া, বিকল্প সংবিধান তৈরি, এমনকি বিপক্ষ মতাদর্শকে নির্মূল করা।

তবে পরবর্তীকালে এনআইএ-র তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ না পাওয়ায় একাধিক অভিযোগ সরিয়ে নেওয়া হয়। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে চলে বিচার প্রক্রিয়া। শেষে বিচারক জানান, বোমা রাখা হয়েছিল কোন মোটরবাইকে, তা প্রমাণ করতে পারেনি প্রসিকিউশন। এমনকি, সেই বাইক প্রজ্ঞা ঠাকুরেরই কি না, তাও বোঝাতে ব্যর্থ তারা। তাই অবশেষে এতদিন পর সকলকে বেকসুর খালাস করা হয়।

এই মামলার রায় এবং তার পর প্রকাশ্যে আসা সাক্ষীদের বক্তব্য ফের প্রশ্ন তুলে দিল ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ তদন্ত নিয়ে। পাশাপাশি, সরকারি তদন্ত সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও বিতর্ক ফের জোরালো হল।


```