২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ (Malegaon Blast) মামলায় বিস্ফোরক দাবি করলেন মহারাষ্ট্র পুলিশের (Maharashtra Police) প্রাক্তন এন্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS) অফিসার মহবুব মুজাওয়ার।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 1 August 2025 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ (Malegaon Blast) মামলায় বিস্ফোরক দাবি করলেন মহারাষ্ট্র পুলিশের (Maharashtra Police) প্রাক্তন এন্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS) অফিসার মহবুব মুজাওয়ার। তাঁর কথায়, তদন্তকারী আধিকারিক পরমবীর সিং তাঁকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতকে গ্রেফতার করতে। দাবি, এটাই ছিল ‘হিন্দু সন্ত্রাস’ তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল।
সম্প্রতি মুম্বইয়ের একটি বিশেষ এনআইএ আদালত এই মামলার সাত অভিযুক্তকে সমস্ত অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন বিজেপির বর্তমান সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত। আদালত জানিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও নির্ভরযোগ্য বা যথাযথ প্রমাণ মেলেনি।
এই রায় প্রকাশ্যে আসার পরেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুজাওয়ার বলেন, “ওই তদন্ত ভুয়ো ছিল। আমাকে বলা হয়েছিল মৃত ব্যক্তিদের জীবিত দেখিয়ে চার্জশিট জমা দিতে। আমি অস্বীকার করায় আমার বিরুদ্ধেই মিথ্যে মামলা রুজু হয়। পরে সেসব মামলা থেকে আমি বেকসুর খালাস পাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “তদন্তকারী আইপিএস অফিসার পরমবীর সিং চেয়েছিলেন আমি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে গ্রেফতার করি। কিন্তু আমি তা করিনি। কারণ, কোনও মিথ্যে মামলায় যুক্ত হতে চাইনি। এর জেরেই আমাকে চক্রান্তের শিকার করা হয়।”
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও শহরে বিস্ফোরণে ছ’জনের মৃত্যু হয়, আহত হন শতাধিক মানুষ। প্রথমে এটিএস এই ঘটনার তদন্তে নামে এবং দাবি করে, অভিযুক্তরা একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘অভিনব ভারত’-এর সঙ্গে যুক্ত। তদন্তে আরও বলা হয়, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি সাধ্বী প্রজ্ঞার নামে ছিল এবং বিস্ফোরক মজুত করেছিলেন কর্নেল পুরোহিত।
পরে তদন্তের দায়িত্ব নেয় জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। তারা এটিএসের তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি দেখতে পায় এবং মহারাষ্ট্র সংগঠিত অপরাধ দমন আইন (MCOCA)-এর আওতায় থাকা অভিযোগগুলি প্রত্যাহার করে নেয়। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনকে ক্লিনচিটও দেওয়া হয়।
২০১৮ সালে এই মামলার বিচার শুরু হয়। ৩০০-র বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হয়, যার মধ্যে বহুজনই পরে নিজেদের বয়ান থেকে সরে যান। অবশেষে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আদালত জানায়, কোনও "বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ" না থাকায় অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি।
বিচারক পর্যবেক্ষণে লেখেন, “সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম হয় না। সন্দেহ বা নৈতিক অনুমানকে ভিত্তি করে শাস্তি দেওয়া যায় না।”