ভারত-পাকিস্তান গত শনিবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। একই সঙ্গে জানান হয়েছিল, সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 May 2025 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-পাকিস্তান গত শনিবার যুদ্ধবিরতি (India Pakistan Ceasefire) ঘোষণা করেছিল। একই সঙ্গে জানান হয়েছিল, সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক হবে। সেই বৈঠকের আগে এদিনই একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে ভারতীয় সেনা (Indian Army)। বিগত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তান ঠিক কেমন হামলার ছক করেছিল তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয় ওই সাংবাদিক বৈঠক থেকে। এও বলা হয়, পাকিস্তানের সব পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে ভারত।
জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে (Jammu Kashmir Pahalgam Attack) ২৬ জনকে খুন করেছিল পাক মদতপুষ্ঠ জঙ্গিরা। পাকিস্তান এই হামলার ঘটনায় নিজেদের ভূমিকা অস্বীকার করলেও ভারতের কাছে তার অকাট্য প্রমাণ ছিল। এরপরই পড়শি দেশের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়ে 'অপারেশন সিঁদুর' শুরু করে ভারত। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। নিকেশ করা হয় ১০০-র বেশি জঙ্গিকেও। বিগত কদিনে এই অভিযান নিয়ে একাধিকবার সাংবাদিক বৈঠক করেছে ভারতীয় সেনা। সোমবারও তেমন একটি বৈঠক করে আরও তথ্য দিল তাঁরা।
সেনার বক্তব্য, গত কয়েক বছরে জঙ্গিদের চরিত্র বদলেছে। এখন তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাতেও এটা দেখা গেছে। পাশাপাশি এও জানান হয়েছে, তুরস্কের পাশাপাশি চিনের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েও হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে পাক-হামলা যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারত।
চিনের কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছে পাকিস্তান? ভারতীয় সেনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিনের পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এটি চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র। ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া এটি সক্রিয় র্যাডার নির্দেশনা ব্যবস্থা এবং উন্নত বৈদ্যুতিক যুদ্ধবিধি প্রতিরোধ ক্ষমতাসমৃদ্ধ।
পিএল-১৫ একটি সক্রিয় রাডার হোমিং সিস্টেম, যা কোনও লক্ষ্যবস্তুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক করতে এবং জ্যামিং প্রতিরোধে সক্ষম করে তোলে। এটি ‘বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ’ যুদ্ধের কথা ভেবে তৈরি করা। অর্থাৎ এটি শত্রু লক্ষ্যবস্তুকে দৃষ্টিসীমার বাইরে থেকেও ধ্বংস করতে পারে।