পহেলগাম হামলার পর অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor)। কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৫ জনকে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
.jpg.webp)
ছবি- গুগল
শেষ আপডেট: 1 June 2025 01:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুপ্তচর সন্দেহে রাজস্থানের বাসিন্দা কাসিম (Indian Spy Kasim) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, গত এক বছরে দু'বার পাকিস্তান গিয়েছিলেন ধৃত। এরইমধ্যে ভাইরাল হয়েছে কাসিমের একটি সাক্ষাৎকার। যেখানে পাকিস্তানের প্রতি নিজের ভালবাসা ব্যক্ত করেছেন তিনি। পহেলগাম হামলা, অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর সীমান্তে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৫ জনকে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
একটি ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল (Viral Video) হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কাসিম। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, 'পাকিস্তানে ফিরে এসে কেমন লাগছে?' উত্তর দেন, 'এখানে এসে নিজের বাড়ির মতো মনে হয়। পাকিস্তানের মানুষ আমাকে এত ভালবাসা দিয়েছে যে মাত্র তিন মাসের মধ্যেই আমি আবার ফিরে এসেছি।'
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের অগস্ট থেকে ২০২৫-এর মার্চ মাসের মধ্যেই দু'বার পাকিস্তানে (Pakistan) গিয়েছিলেন কাসিম। তিনি অবৈধভাবে ভারতের সিমকার্ড পাকিস্তানে পাচার করতেন, যা পরে আইএসআই-এর গুপ্তচররা ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং সেনাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করত। পহেলগাম হামলার পর আতঙ্কে মোবাইল থেকে সমস্ত তথ্য মুছে ফেলেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত কাসিমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছে বলে খবর।
কাসিমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি ভারতে অনেককেই মৌলবাদী চিন্তাধারায় প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। ধৃত বড় কোনও চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অনুমান তদন্তকারীদের। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাঁদেরও খুঁজে বের করতে চায় পুলিশ।
২২ এপ্রিল পহেলগামে (Pahalgam Terror Attack) পর্যটকদের ওপর পাক জঙ্গি সংগঠনের নৃশংস হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে ফের চিড় ধরেছে। ৭ মে 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯ জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। এই প্রত্যাঘাতে ১০০-র বেশি জঙ্গি নিকেশ হয়েছে বলেও জানিয়েছিল ভারতীয় সেনা। পাল্টা পাকিস্তান যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার পর সীমান্তে কড়া নজরদারি চলছে। চরবৃত্তির সঙ্গে জড়িতরাও আর পাঁচটা মানুষের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। তাঁরা হয়তো আপনার পাশের বাড়িটাতেই আছে, কিন্তু আপনি টের পাবেন না। তাই নাগরিকদেরও সচেতন থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
চলতি মে মাসের শুরুতেই গুজরাতের কচ্ছ থেকে সহদেব সিং গোহিল নামের এক স্বাস্থ্যকর্মীকে গ্রেফতার করে এটিএস। ভারতীয় বায়ুসেনা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীরর নতুন ঘাঁটির ছবি ও ভিডিও পাকিস্তানের এক গুপ্তচরকে পাঠানোর অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। এটিএস সূত্রে খবর, ২০২৩ সালে হোয়াটসঅ্যাপে 'অদিতি ভরদ্বাজ' নামের এক মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ হয় সহদেবের। তদন্তে উঠে আসে, 'অদিতি' পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা সংস্থার এক ছদ্মবেশী। শুরুতে সাধারণ কথাবার্তা হলেও পরে সেনাদের খুঁটিনাটি তথ্য দিতেন সহদেব।
২০২৫ সালের শুরুতেই নিজের আধার নম্বর ব্যবহার করে নতুন একটি সিমকার্ড নেন সহদেব। সেই নম্বরেই পাকিস্তানি এজেন্টের হয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে দেন তিনি। ওটিপি-র মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভেট করা হয়েছিল। এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির থেকে ৪০ হাজার টাকা নগদও পেয়েছিলেন অভিযুক্ত।