Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রে

ভারতের প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কবার্তা চাই, স্টার রেটিং নয়, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্যাকেজিংয়ে লেবেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে পুনের দুই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

ভারতের প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কবার্তা চাই, স্টার রেটিং নয়, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

প্রতীকী ছবি

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 14 July 2025 15:10

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্যাকেটজাত খাবারে ‘হেল্থ স্টার রেটিং’ (Health Star Rating) নয়, সরাসরি সতর্কীকরণ লেবেল দরকার - এমনই দাবি উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের এক জনস্বার্থ মামলায়। খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্যাকেজিংয়ে লেবেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে পুনের দুই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

3S এবং Our Health নামের ওই দুই সংস্থার দায়ের করা ওই মামলায় শুনানি চলছে। কেন্দ্রকে তিন মাসের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর করতে বলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা FSSAI (Food Safety and Standards Authority of India) ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত লেবেলিং বিধির উপর ১৪ হাজারেরও বেশি জনমত গ্রহণ করেছে এবং সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্টার রেটিং নাকি সরাসরি সতর্কতা?

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে FSSAI একটি খসড়া নির্দেশিকা আনে, Front-of-Pack Nutrition Labelling (FOPNL), যেখানে প্রস্তাব দেওয়া হয় ইন্ডিয়ান নিউট্রিশন রেটিং (Indian Nutrition Rating) বা হেল্থ স্টার রেটিং (Health Star Rating) মডেলের। এতে খাবারের সামগ্রিক পুষ্টিগুণ ১ থেকে ৫ তারার মাধ্যমে বোঝানো হবে। যত বেশি তারা, ততই ‘স্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত।

কিন্তু কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন-এর কার্যকরী সভাপতি জর্জ চেরিয়ান এই মডেলের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, কোনও সংস্থা পণ্যে প্রোটিন বা ভিটামিন যোগ করে সহজেই ভাল রেটিং পেয়ে যেতে পারে, যদিও তাতে চিনি বা নুনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকে। “এইভাবে আসল বিপদের কথাই চাপা পড়ে যায়,” বলেন চেরিয়ান।

তিনি চিলির মডেলের উদাহরণ দেন, যেখানে অতিরিক্ত ক্যালোরি, চিনি বা ফ্যাট থাকলে প্যাকেটে বড় কালো আটকোনা সতর্কবার্তা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ভারতের মতো দেশে, যেখানে সাক্ষরতার হার অসম এবং বহু ভাষাভাষী মানুষ বাস করেন, সেখানে ভাষা নয়—চিহ্ন বা ইমোজির মাধ্যমেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি, যেমন আজ সবুজ/লাল বিন্দু দিয়ে নিরামিষ-আমিষ বোঝানো হয়।

চিলিতে FOPNL নীতি চালু হওয়ার ১৮ মাসের মধ্যে এক গবেষণা দেখা দেয়, মিষ্টি পানীয়ের ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমেছে। শিশুদের জন্য অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপন সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়, স্কুলে জাঙ্ক ফুড বিক্রি বন্ধ হয়, এবং প্যাকেটজাত খাবারে বাধ্যতামূলক সতর্ক লেবেল দেওয়া শুরু হয়। এই তথ্য PLOS Medicine নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়।

National Advocacy in Public Interest-এর সঙ্গে যুক্ত ডা. অরুণ গুপ্ত বলেন, তারাভিত্তিক স্কোরিং যথেষ্ট নয়। “ক্রেতারা পণ্যের প্যাকেট হাতে নিয়ে মাত্র ৬–৮ সেকেন্ডে সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময়ে তারা স্টার রেটিং বিচার করার সুযোগ পান না,” বলেন তিনি। তাঁর মতে, “ভোক্তাকেই রাজা করার সময় এসেছে। তাঁকে স্বাস্থ্য নিয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিতে হবে।”

VOICE-এর চিফ অপারেটিং অফিসার অসীম সান্যাল বলেন, FOPNL-ই ভারতের মতো দেশে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ব্যবহারের হার কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। গবেষণা অনুযায়ী, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার আমাদের শরীরে একপ্রকার আসক্তি তৈরি করে।

চেরিয়ান জানাচ্ছেন, এই লেবেলিং মূলত প্যাকেটজাত খাবারের জন্য প্রযোজ্য হলেও, অবিন্যস্ত বাজারে (informal sector) যেসব অব্র্যান্ডেড বা ভুয়ো পণ্য ছোট দোকানে বিক্রি হয়, সেগুলিকেও নজরে আনা জরুরি। FSSAI-কে আরও শক্তিশালী তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা গড়তে হবে, যাতে সব পণ্যের উপরই নিয়ম কার্যকর হয়।


```