স্বামী ও স্ত্রীর ফোনালাপের গোপন রেকর্ড ডিভোর্স মামলায় (Divorce petition) প্রমাণ (Evidence) হিসেবে ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 July 2025 14:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী ও স্ত্রীর ফোনালাপের গোপন রেকর্ড ডিভোর্স মামলায় (Divorce petition) প্রমাণ (Evidence) হিসেবে ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন ও বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ সোমবার পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের একটি পূর্ববর্তী রায় খারিজ করে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল, স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তাঁর ফোন রেকর্ড করার অর্থ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা। সুতরাং তা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
ভাটিন্ডার এক পারিবারিক আদালতে এক স্বামী তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘মানসিক অত্যাচারের’ অভিযোগে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন। অভিযোগ প্রমাণে তিনি একটি সিডি পেশ করেন, যাতে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ড ছিল। পারিবারিক আদালত সেই সিডিকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে।
তবে স্ত্রী হাইকোর্টে (High Court) যান এই যুক্তিতে যে, তার অনুমতি ছাড়া ফোন রেকর্ড করা হয়েছে এবং তা তাঁর মৌলিক অধিকার তথা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। হাইকোর্ট তাঁর যুক্তি মেনে নিয়ে নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে। হাইকোর্ট এ-ও বলেছিল, গোপনে রেকর্ড করা কথোপকথনের প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া যাচাই করা কঠিন এবং আদালত তা মূল্যায়ন করতে অক্ষম।
সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সেই রায় খারিজ করে জানিয়েছে, ‘‘যখন বৈবাহিক সম্পর্ক এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যে এক পক্ষ অন্য পক্ষের উপর নজরদারি করছে, সেটাই সম্পর্কের ভাঙনের চিহ্ন এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব প্রকাশ করে।’’ বিচারপতিরা আরও বলেন, ‘‘এই ধরনের রেকর্ডিং যদি সত্য উদঘাটনে সাহায্য করে, তা হলে তা বিচার ব্যবস্থার স্বার্থে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত।’’
এভিডেন্স অ্যাক্টের ধারা ১২২ অনুযায়ী স্বামী ও স্ত্রীর গোপন কথোপকথন প্রমাণ হিসেবে সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, সেই গোপনীয়তার অধিকার তখনই কার্যকর হয় যখন সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে পড়লে, সেই গোপনীয়তা বলে আর কিছু থাকে না বলেই আদালতের মত।
এই রায় নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনি মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকে একে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন, কারণ এটি ভবিষ্যতের বহু বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যকে আইনি স্বীকৃতি দেবে। অন্যদিকে, কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন—এই রায় সম্পর্কের মধ্যে সন্দেহ ও নজরদারির প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
গোপনে রেকর্ড করা স্বামী-স্ত্রীর টেলিফোন কথোপকথন এখন থেকে আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে, যদি তা নির্ভরযোগ্য হয় এবং আইনসিদ্ধ উপায়ে উপস্থাপন করা হয়। তবে একই সঙ্গে আদালত সতর্কও করেছে, প্রতিটি মামলা বিচারের সময় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।