কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করেন তিনি নিজে যেন ইয়েমেনের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেন।

ইয়েমেনে প্রবাসী ভারতীয় নার্স নিমিশা প্রিয়া
শেষ আপডেট: 14 July 2025 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইয়েমেনে প্রবাসী ভারতীয় নার্স নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড (execution of Nimisha Priya an Indian nurse of Yemen) রদের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে (supreme court) বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে একথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
কেন্দ্রের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, সব ধরনের কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। ইয়েমেন প্রশাসন ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এখন নিহতের পরিবারকে টাকা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর শেষ চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে সেটা নির্ভর করবে ইয়েমেনের নিহতের পরিবার তাতে সায় দেবে কিনা তার উপর।
নিমিশার প্রাণ রক্ষায় শেষ মুহূর্তে যুদ্ধকালীন তৎপতা শুরু হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে নিশিমার পরিবার দাবি করে শীর্ষ আদালত ভারত সরকারকে বলুক নার্সের প্রাণ রক্ষায় ইয়েমেনি প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি করতে। শীর্ষ আদালত এমন কোনও নির্দেশ জারি করেনি।
এদিকে, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করেন তিনি নিজে যেন ইয়েমেনের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী তেমন কোনও পদক্ষেপ করেছেন বলে জানা যায়নি। তিরুবনন্তপুরনে বিজয়ন বলেছেন আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করলে বেঁচে যেতে পারেন ওই নার্স। কেরলের কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কেভি থমাসও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি লিখে ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে কথা বলার আর্জি জানিয়েছেন।
নিমিশা প্রিয়া কেরলের পালাকাডের আদি বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ইয়েমেনের কারাগারে বন্দি। ইয়েমেনি ব্যবসায়ী সহযোগীকে হত্যার দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে সে দেশের আদালত। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টও তাঁর প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করে দিয়েছে।
এদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে ইয়েমেন কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে। ৩৯ বছর বয়সি ওই নারী নার্সের চাকরি নিয়ে ইয়েমেলে গিয়েছিলেন। পরে নিজেই একটি একটি চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করেন। ব্যবসায়িক গোলমাল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আর এক অংশীদারকে খুন করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ইয়েমেন থেকে পালিয়ে আসার সময় সে দেশের পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। খুনের ঘটনাটি ২০১৭ সালের। নিমিশার মৃত্যদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ১৬ জুলাই, বুধবার। অর্থাৎ হাতে আর সময় নেই।