একাধিকবার সরকার জানিয়েছে, নিমিশার পরিবারকে সবরকম সাহায্য করা হচ্ছে। তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় হুতিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিমিশা প্রিয়া
শেষ আপডেট: 9 July 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইয়েমেনি নাগরিককে (Citizen of Yemen) হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়াকে (Nimisha Priya) আগামী ১৬ জুলাই ফাঁসিতে (Capital Punishment) ঝোলানো হবে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বারবার কূটনৈতিক স্তরে হস্তক্ষেপ করে নিমিশার ফাঁসি রদের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইয়েমেনের আইনি প্রক্রিয়ায় কোনও রকম ছাড় পাওয়া যায়নি। তাহলে কি নিমিশাকে বাঁচানোর আর কোনও আশা নেই?
শত চেষ্টা সত্ত্বেও নিমিশার সাজা রোধে কূটনৈতিক স্তরে বড় বাধার মুখে পড়েছে ভারত সরকার (Indian Govt)। কারণ, ভারতের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সঙ্গে, হুতিদের সঙ্গে নয়। আর তারাই ইয়েমেনের অধিকাংশ জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে।
কোথায় জটিলতা?
হুতিদের প্রধান প্রশাসনিক সংগঠন ‘সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিল’। তারা নিয়ন্ত্রণ করছে ইয়েমেনের বড় অংশ, যার মধ্যে পড়ে রাজধানী সানাও। এই সানাতেই নিমিশার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে, ভারত সরকার তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনও কূটনৈতিক যোগাযোগ করতে পারছে না।
কী পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত?
হুতি-শাসিত এলাকায় নিমিশার বিরুদ্ধে একটি ট্রায়াল কোর্টে খুনের অভিযোগে রায় ঘোষণা হয়। ২০২৩ সালে হুতিদের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সেই রায়ে সিলমোহর দেয়। এরপর কিছু বিভ্রান্তিকর রিপোর্টে দাবি করা হয়, স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি মৃত্যুদণ্ডে অনুমোদন দিয়েছেন। তবে দিল্লিতে ইয়েমেনের দূতাবাস জানিয়ে দেয়, ঘটনাটি হুতি-শাসিত অঞ্চলের আওতাধীন, তাই সেখানে স্বীকৃত সরকারের কোনও ভূমিকা নেই।
ভারত কী জানাচ্ছে?
একাধিকবার সরকার জানিয়েছে, নিমিশার পরিবারকে সবরকম সাহায্য করা হচ্ছে। তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় হুতিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে তাঁর পরিবার এবং নানা মানবাধিকার সংগঠন আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক হওয়ায়, মৃত্যুদণ্ড রদে মানবিক হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র ভরসা বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
কী ঘটেছিল?
স্বামী টমি থমাস ও কন্যাকে নিয়ে নিমিশা ২০০৮ সাল থেকে ইয়েমেনে থাকতেন। সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতেন তিনি। ২০১৪ সালে স্বামী ও কন্যা ফিরে এলেও, নিজের ক্লিনিক খোলার স্বপ্ন নিয়ে ইয়েমেনে থেকে যান নিমিশা।
সেই সময়েই তাঁর পরিচয় হয় ইয়েমেনি নাগরিক তালাল আব্দো মাহদির সঙ্গে। মাহদি ক্লিনিক খোলায় সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন। কারণ, ইয়েমেনের আইন অনুযায়ী, কোনও বিদেশিকে ব্যবসা শুরু করতে হলে দেশের নাগরিককে অংশীদার করতে হয়। সেই মতো ২০১৫ সালে দু’জনে মিলে একটি ক্লিনিক শুরু করেন। কিন্তু ব্যবসায়িক সম্পর্কে শিগগিরই ফাটল ধরে। পরে মৃত্যু হয় মাহদির। আর খুনের দায় জেল হয় নিমিশার।
পরিবারের অভিযোগ, ধীরে ধীরে তাঁর সব টাকা আত্মসাৎ করেন মাহদি। তাঁকে মাদক সেবনে বাধ্য করা হয়, এমনকি পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় যাতে তিনি দেশে ফিরতে না পারেন। মাহদি আইনি নথিতে তাঁকে স্ত্রী বলেও দাবি করেন, ফলে প্রশাসনিক সাহায্য পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় নিমিশার পক্ষে।