ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর ছ'দিনের মাথায় শোকপ্রকাশ করে তেহরানে প্রতি সমবেদনা জানাল ভারত। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ইরানের দূতাবাসে গিয়ে সে দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি।

ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করলেন বিদেশসচিব
শেষ আপডেট: 5 March 2026 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর (Supreme Leader Ayatollah Ali Khamenei death) ছ'দিনের মাথায় শোকপ্রকাশ করে তেহরানে প্রতি সমবেদনা জানাল ভারত। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ইরানের দূতাবাসে গিয়ে সে দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি ( Foreign Secretary Vikram Misri)। তিনি ভারতের পক্ষ থেকে শোকবার্তা জানান (Vikram Misri met the Iran ambassador) এবং শোকপত্রে স্বাক্ষর করেন (signed the condolence book for Khamenei's death)।
গত শনিবার থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী (Israel US Strikes on Iran)। সেই হামলাতেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। রবিবার সকালে তেহরান সরকার তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এরপর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর (Khamenei Death) পর ইরান একাধিক দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে খবর। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, বাহরিন, সৌদি আরব ও কুয়েত-সহ কয়েকটি দেশে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (India PM Modi) ইতিমধ্যেই একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুরু থেকেই ভারত সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে সওয়াল করে আসছে।
তবে মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলার (US Israel Attack) বিষয়ে ভারত সরকার এখনও প্রকাশ্যে কোনও কড়া নিন্দা করেনি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইজ়রায়েল সফরের (PM Modi Israel visit) পরেই ইরানে এই হামলা শুরু হওয়ায় ভারতের অবস্থান নিয়ে বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছিল। কেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পরও ভারত আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ করেনি, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিদেশসচিবের এই পদক্ষেপ সেই বিতর্ক অনেকটাই কমাতে পারে।
আমেরিকা, ইজরায়েল, ইরানের সংঘর্ষের ছ'দিনে পড়ল বৃহস্পতিবার। আরবদুনিয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ইরানের নিহত হয়েছে হাজারের বেশি মানুষ, আমেরিকা ও ইজরায়েল থেকেও হতাহতের খবর এসেছে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েলি বাহিনী। এর মধ্যেই শ্রীলঙ্কার কাছে ভারতের 'অতিথি' ইরানি জাহাজকে মার্কিন টর্পেডো হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে খবর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা খুবই কম। তাঁর কথায়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলবে। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারির জবাব দিয়ে ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “ওরা বলছে প্রত্যাঘাত করবে। সেই সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।”
খামেনেইর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেইকেই (Mojtaba Hosseini Khamenei) দেশের পরবর্তী সুপ্রিম লিডার (Supreme Leader of Iran) হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
নতুন নেতাকে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছে Islamic Revolutionary Guard Corps। সংস্থাটি নাকি ধর্মীয় নেতাদের এই পরিষদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে মোজতবাকে সমর্থন করিয়েছে। এদিকে, ইজরায়েলের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, সুপ্রিম লিডার যেই হোক না কেন, তিনি ইজরায়েলের টার্গেট। এরপরই মোজতবা খামেনেইর প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাতজ (Israel Katz) লিখেছেন, 'ইরানের (Iran) সন্ত্রাসী শাসনের নেতৃত্বই যেই দিক না কেন, যে ইজরায়েলকে ধ্বংস করতে চায়, আমেরিকা ও বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিকে হুমকি দেয়, আর নিজেদের দেশের মানুষকেই দমন করে, তাদের নিঃশর্তভাবে টার্গেট করা হবে। তার নাম কী, কোথায় লুকিয়ে আছে- এতে কিছু যায় আসে না।'