ইরানি বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, যুদ্ধজাহাজটিতে প্রায় ১৩০ জন নাবিক ছিলেন। অতর্কিত এই হামলায় অন্তত ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইরিস ডেনা
শেষ আপডেট: 5 March 2026 12:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রথাগত যুদ্ধের সমস্ত শিষ্টাচার ভেঙে আছড়ে পড়ল মার্কিন টর্পেডো। বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে আমেরিকার পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিনের অতর্কিত হানায় সলিল সমাধি ঘটল ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’-র (IRIS Dena)।
অতর্কিত হামলা ও মৃত্যুমিছিল
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনও শত্রুদেশের জাহাজ ডোবাতে টর্পেডো ব্যবহার করল ওয়াশিংটন। ইরানি বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, যুদ্ধজাহাজটিতে প্রায় ১৩০ জন নাবিক ছিলেন। অতর্কিত এই হামলায় অন্তত ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী এখনও পর্যন্ত সমুদ্র থেকে ৩০ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছে। তাঁদের গলের কারাপিতিঁয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভারতের ‘অতিথি’ ছিল ‘ডেনা’
আশ্চর্যের বিষয় হল, এই যুদ্ধজাহাজটি দিনকয়েক আগেই ভারতের রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ছিল। গত ১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগরে আয়োজিত ‘মিলন’ (Milan) আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল আইরিস ডেনা। ভারতীয় নৌবাহিনীর উষ্ণ অভ্যর্থনা সেরে ফেরার পথেই মাঝসমুদ্রে মার্কিন নিশানায় পড়ে জাহাজটি।
তেহরানের হুঁশিয়ারি
এই ঘটনাকে ‘সমুদ্রে নৃশংসতা’ বলে দেগে দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তাঁর সাফ কথা, “আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনও প্ররোচনা ছাড়াই এই নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। ওয়াশিংটনকে এই হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য তিতকুটে খেসারত দিতে হবে।” ইরান সাফ জানিয়েছে, নিজেদের উপকূল থেকে বহু দূরে এভাবে বিনা প্ররোচনায় যুদ্ধজাহাজে হামলার দায় আমেরিকাকেই নিতে হবে।
তপ্ত আরব দুনিয়া
এই ঘটনার জেরে আরব দুনিয়া এবং সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হল। ভারত মহাসাগরের এই রণক্ষেত্রে এখন বিবাদমান পক্ষগুলি একে অপরের দিকে কামানের মুখ উঁচিয়ে রয়েছে। আমেরিকার এই ‘অপারেশন’ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
এদিকে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় ঘাঁটিগুলির একটি রয়েছে কাতারে। বিপুল সংখ্যায় মার্কিন সেনা ও অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে সেই ঘাঁটিতে। মাপা কৌশলে সেই ঘাঁটিই গুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টায় ছিল ইরান। কিন্তু হামলার ঠিক আগে ইরানের দুটি বোমারু বিমানকে গুলি করে নামিয়ে দেয় কাতারের যুদ্ধবিমান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) একটি এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে।
সিএনএনের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল কাতারের আল-উদেইদ (Al-Udeid) এয়ার বেস, যেখানে সাধারণত প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে। সূত্রের দাবি, ইরানের বিমানগুলি টার্গেট থেকে মাত্র দু’মিনিট দূরে ছিল। কিন্তু শেষমেশ সফল হতে পারেনি।