কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ২ মিনিট আগে ইরানের দুটি সু-২৪ বোমারু বিমান ভূপাতিত করে কাতারের এফ-১৫, দাবি সিএনএনের। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে চাঞ্চল্য।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 5 March 2026 07:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় ঘাঁটিগুলির একটি রয়েছে কাতারে। বিপুল সংখ্যায় মার্কিন সেনা ও অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে সেই ঘাঁটিতে। মাপা কৌশলে সেই ঘাঁটিই গুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টায় ছিল ইরান। কিন্তু হামলার ঠিক আগে ইরানের দুটি বোমারু বিমানকে গুলি করে নামিয়ে দেয় কাতারের যুদ্ধবিমান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) একটি এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে।
সিএনএনের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল কাতারের আল-উদেইদ (Al-Udeid) এয়ার বেস, যেখানে সাধারণত প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে। সূত্রের দাবি, ইরানের বিমানগুলি টার্গেট থেকে মাত্র দু’মিনিট দূরে ছিল। কিন্তু শেষমেশ সফল হতে পারেনি।
পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতেই কাতার দ্রুত তাদের যুদ্ধবিমান পাঠায়। একটি কাতারি F-15 যুদ্ধবিমান আকাশে ইরানের Su-24 বোমারু বিমানের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে নামে। সেই সংঘর্ষে দুটি ইরানি বিমানই লুটিয়ে পড়ে। বিমান দুটি কাতারের জলসীমায় ভেঙে পড়ে বলে জানিয়েছে সূত্র।
কাতারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, বিমানের ক্রুদের খোঁজে অনুসন্ধান অভিযান চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন হামলায় তেহরানে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলির দিকে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। আঞ্চলিক সূত্রের দাবি—ইতিমধ্যে ৪০০-র বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১,০০০-র বেশি ড্রোন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছোড়া হয়েছে।
এই হামলার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে আরেকটি কারণে। খামেনেই নিহত হওয়ার পর প্রথমবার যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশে হামলার চেষ্টা করেছে ইরান। এর আগে অধিকাংশ আক্রমণই ছিল ড্রোন ও মিসাইল দিয়ে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ঘটনাটি স্বীকার করেছেন। তিনি সিএনএনকে বলেন, “কাতারের যুদ্ধবিমান প্রথমবারের মতো আকাশযুদ্ধে ইরানের দুটি বোমারু বিমান ভূপাতিত করেছে।” পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, কাতারের মাঠে নেমে পড়া দেখিয়ে দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন শুধু ইরান ও ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উপসাগরীয় দেশগুলিও ক্রমশ এই সংঘাতের সরাসরি অংশ হয়ে উঠছে। যদি এই সংঘর্ষ আরও বাড়ে, তাহলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলেই বড় আকারের যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।