বাংলাদেশ-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তারেক রহমান ও শফিকুর রহমানকে খসড়া দেখানো হয়েছিল বলে দাবি বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের। চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার বিধানও রয়েছে বলে জানান তিনি।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 4 March 2026 22:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার বহু চর্চিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনেক না জানা কথা ফাঁস করলেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, ওই চুক্তি করার আগে তারেক রহমান এবং শফিকুর রহমানকে দেখানো হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তিম লগ্নে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির সময় তারেক রহমান শুধুই বিএনপি'র চেয়ারম্যান ছিলেন। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রীও। খসড়া দেখানো হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকেও। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ সংসদের বিরোধী দলনেতা।
বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমান বুধবার ঢাকায় জানিয়েছেন, দুজনেই ওই চুক্তির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত ইউনুস সরকারে খলিলুর রহমান ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তবে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির রূপায়নে তিনি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান রূপকার।
ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মুখে ইউনুস সরকার আমেরিকার সঙ্গে ওই বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তিতে বহু বিতর্কিত ধারা যুক্ত আছে এবং তা বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী বলে বিভিন্ন মহলে কথা উঠেছে। তবে লক্ষণীয় হল বিএনপি নেতৃত্ব চুক্তিটির বিষয়ে কখনই তাদের অবস্থান প্রশ্ন করেনি। বুধবার তারেক রহমানের বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়ে দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ওই চুক্তির বিষয়ে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল।
আমেরিকার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বিদেশ সচিব পল কাপুর বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। তাঁর এই সফরের অন্যতম আলোচ্য হচ্ছে বাণিজ্য। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল পল কাপুর ঢাকায় থাকাকালীন বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর কৌশলে জানিয়ে দিলেন, বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান এবং বিরোধী দলনেতা শফিকুর রহমান শতভাগ ওয়াকিবহাল। কূটনৈতিক মহলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, আমেরিকার পরামর্শেই খলিলুর পল কাপুরের সফরের মাঝে বিষয়টি খোলসা করলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছিল, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান খোলসা করা হোক।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহলে খলিলুর রহমান মার্কিন ঘনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি ইউনুস সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালে বিএনপি তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। এমনকী তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পথ থেকে সুরক্ষার কারণেই সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছিল তারেক রহমানের দল। আশ্চর্যের বিষয় হল তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গড়ার পর সেই খলিলুরকেই বিদেশ মন্ত্রী করা হয়েছে।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খলিলুর রহমান দাবি করেন, আলোচ্য চুক্তিতে এমন কিছু নেই যা বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর। তিনি এমনও বলেন যে বর্তমান সরকার মনে করলে ওই চুক্তি নিয়ে নাও এগোতে পারে। চুক্তিটি সেই ভাবেই স্বাক্ষরিত হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত না ওই চুক্তির আধারে কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে ততদিন সেটি কার্যকর নয়। তিনি আর জানান দুপক্ষই আগাম নোটিস দিয়ে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে এমন বিধান তাতে রয়েছে।