বিএনপি এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকার পরিচালনা করে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ওই সরকারের সময়ে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এক পর্যায়ে চরম অবনতি হয়েছিল। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা পুলিশ, সেনা, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী সহ যাবতীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নামান। সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল 'অপারেশন ক্লিন হার্ট'।

শেখ হাসিনা ও তারেক রহমান
শেষ আপডেট: 4 March 2026 17:19
চাঁদাবাজ, খুনি, ধর্ষক এবং অপহরণকারীদের গ্রেফতারে দেশব্যাপী অভিযানে নামছে বাংলাদেশ প্রশাসন। নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বুধবার ঢাকায় ঘোষণা করেছেন এই অভিযান শুরু হবে রাজধানীর ঢাকায় (Dhaka)। পর্যায়ক্রমে গোটা দেশেই অপরাধ দমনে এই অভিযান চলবে।

ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সালাউদ্দিন আহমেদ। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে।
বাংলাদেশে বিগত ১৯-২০ মাস যাবত আইনশৃঙ্খলার বেহাল দশা চলছে। নির্বাচনের নির্বাচনের মুখে অবস্থার সাময়িক উন্নতি হলেও ভোট মিটে দেশের নানা অংশে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে অপরাধীরা। যদিও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দাবি করছে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সেই উন্নতি যে কাঙ্ক্ষিত নয়, তা স্পষ্ট হয়েছে বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যে। তিনি এদিন ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে গিয়ে পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান পুলিশকে বলা হয়েছে নিরপেক্ষভাবে দাগি অপরাধীদের তালিকা তৈরি করতে। তিনি বলেন, এই তালিকায় শুধু চোর ডাকাত খুনি বদমাশ নয়, যেকোনও বেআইনি অস্ত্রধারীকেই গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪-এর অগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ জুড়ে একাধিক থানা এবং অস্ত্রাগার লুট হয়। বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রী জানিয়েছেন, পুলিশ এই সমস্ত অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে
বিএনপি এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকার পরিচালনা করে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ওই সরকারের সময়ে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এক পর্যায়ে চরম অবনতি হয়েছিল। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা পুলিশ, সেনা, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী সহ যাবতীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নামান। সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল 'অপারেশন ক্লিন হার্ট'।
আইনশৃংখলার খানিক উন্নতি হলেও নিরাপত্তা বাহিনীর ওই অভিযান নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয় তখন বাংলাদেশে। প্রায় ৫০ জন নাগরিক হেফাজতে মারা যান। কয়েক হাজার মানুষকে বিভিন্ন মামলায় নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেফতার করে। তাদের অনেকেই তাদের সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন বলে আওয়ামী লিগ অভিযোগ তুলেছিল। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের আদালত ওই অভিযানকে বেআইনি আখ্যা দিয়েছিল।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে খালেদা পুত্র তারেক মায়ের দেখানো পথে 'অপারেশন ক্লিন হার্ট টু' চালু করতে চলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হল দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা।
তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিযান শুরু হলে ধৃতদের কোথায় রাখা হবে। বাংলাদেশের কারাগুলিতে বন্দি উপচে পড়ছে। কোন কোন কারাগারে ধারণক্ষমতার থেকে তিন চার গুণ বেশি বন্দিকে রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে আওয়ামী লিগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির কয়েক হাজার নেতাকর্মী সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দু' দফায় 'অপারেশন ডেভিল হান্ট' নামে অভিযান সংঘটিত করে। যদিও আওয়ামী লিগের অভিযোগ দুষ্কৃতি দমনের নামে ওই দুই অভিযানে আওয়ামী লিগের সাধারণ নেতাকর্মী সমর্থকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। দিনের পর দিন তাদের জামিন মিলছে না।
তবে এরই পাশাপাশি নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লিগের বন্ধ পার্টি অফিস খুলতে শুরু করেছে। নেতাকর্মীরা সেখানে সকাল সন্ধ্যায় জড়ো হচ্ছেন। রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা চলছে। চলতি মাসে তিন দিন আওয়ামী লিগ সদলবলে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে আছে ৭ মার্চ। ওইদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১-এ ঢাকার ময়দানে স্বাধীনতা ও মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন। আওয়ামী লিগ ওই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে চায়। দ্বিতীয় যে দিনটি তারা পালন করতে উদগ্রীব সেটি হল ১৭ মার্চ, শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী। এছাড়া ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস।
আওয়ামী লিগের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, অপরাধীদের গ্রেফতারের নামে তাদের নেতাকর্মী সমর্থকদের জেলে পাঠানো হতে পারে। অতীতে খালেদা জিয়ার সময়ে দুষ্কৃতী দমনের নামে সেনা-পুলিশের যৌথ বাহিনী আওয়ামী লিগকেই নিশানা করেছিল।
ওই নেতা আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। চুরি ডাকাতি অপহরণ ধর্ষণ, খুনের মতো ঘটনা অব্যাহত। এই পরিস্থিতি বদলাতে বড় ধরনের অভিযান দরকার তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের আশঙ্কা, আওয়ামী লিগের কর্মসূচি শুরুর মুখে অপরাধ দমন অভিযানের পিছনে অন্য রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে। সাবেক শাসকদলের এই অভিযোগ বা আশঙ্কা সম্পর্কে বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।