ক্ষমতা ছাড়ার পরও এক বছরের এসএসএফ নিরাপত্তা। ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়েছে ইউনুসকে। তাহলে কি রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে নামছেন তিনি? বাংলাদেশ রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 3 March 2026 08:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধান উপদেষ্টা না থাকলেও মহম্মদ ইউনুস এখনও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমান নিরাপত্তা পাচ্ছেন। 'অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' ঘোষণা করে তাঁকে এই নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরের জন্য এই নিরাপত্তা বহাল থাকবে। প্রয়োজনে মেয়াদ বাড়ানো হবে।
আশ্চর্যের বিষয় হল, মহম্মদ ইউনুস নিজেই তাঁর জন্য এই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তারপর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। এতদিন পর জানা যাচ্ছে নির্বাচনের দুদিন আগে অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সচিব পদমর্যাদার মহম্মদ সাইফুল্লাহ পান্না এক নির্দেশ জারি করে বলেন প্রধান উপদেষ্টার পথ থেকে সরে যাওয়ার পর মহম্মদ ইউনুস আরও অন্তত এক বছর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফের বিশেষ নিরাপত্তা পাবেন। বাংলাদেশে এই নিরাপত্তা প্রধানমন্ত্রী পেয়ে থাকেন। এই বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য মহম্মদ ইউনুসকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মহম্মদ সাইফুল্লাহ পান্না তখন প্রধান উপদেষ্টার অফিসে কর্মরত ছিলেন।
অবসর জীবনে ইউনুসকে এই বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে তিনি কি তাহলে এরপর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন? তিনি উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে বলা হয়েছিল ইউনুস তাঁর গ্রামীণের বিভিন্ন সংস্থার কাজে ফিরে যাবেন। রাজনৈতিক প্রশাসনিক বা সাংবিধানিক কোনও পদে তিনি থাকবেন না। গত সপ্তাহে তিনি গ্রামীণের সদর দপ্তরের সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কাটিয়েছেন।
কিন্তু জল্পনা আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং আরও কয়েকটি দেশের তরফে তারেক রহমানের সরকারের উপর চাপ আছে ইউনুসকে রাষ্ট্রপতি করার। এই ব্যাপারে নির্বাচনের আগে থেকেই দাবি তুলে আসছে জামায়েত ইসলামী এবং এনসিপির মত দলগুলি।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ আছে ২০২৮ পর্যন্ত। সম্প্রতি তিনি এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকার এবং মহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির প্রতি অবমাননাকর আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একাধিকবার চেষ্টা হয়েছে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পথ থেকে সরাতে। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বের বাধায় ইউনুস তাঁকে সরাতে পারেনি। আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশের নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে চলেছে। সরকারের তরফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা করেছেন প্রথা মাফিক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন অধিবেশনের সূচনা করবেন।
যদিও একাধিক মহলের খবর, বিএনপি'র অভ্যন্তরেও সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার ভাবনা আছে। সংসদ অধিবেশনের পর এই ব্যাপারে রাষ্ট্রপতিকে দল ও সরকারের বক্তব্য জানিয়ে দেওয়া হতে পারে।
তবে কোনও কোনও মহল থেকে এমন বক্তব্যও ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে আওয়ামী লিগের লোকজন তাঁর উপর হামলা করতে পারে। ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারই গত বছর ১২ মে আওয়ামী লিগের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তখর জেরে ওই দলটি মাঠে ময়দানে রাজনীতি করতে পারছে না। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শেখ হাসিনার দল অংশ নিতে পারেনি। তাহলে বহু বছর পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ গঠিত হচ্ছে আওয়ামী লিগকে ছাড়াই।