চলতি সপ্তাহের গোড়া থেকেই এই মেসেজ ও ই-মেল পৌঁছচ্ছে গুচ্ছ গুচ্ছ আয়কর রিটার্ন দেওয়া ব্যক্তিদের কাছে।

রিটার্ন দাখিল করা লক্ষ লক্ষ লোকজনের মধ্যে বিভ্রান্ত ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শেষ আপডেট: 24 December 2025 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়কর দফতরের নতুন মেসেজে তুলকালাম বেধে গিয়েছে আয়করদাতাদের মধ্যে। চলতি সপ্তাহের গোড়া থেকেই এই মেসেজ ও ই-মেল পৌঁছচ্ছে গুচ্ছ গুচ্ছ আয়কর রিটার্ন দেওয়া ব্যক্তিদের কাছে। যা নিয়ে রিটার্ন দাখিল করা লক্ষ লক্ষ লোকজনের মধ্যে বিভ্রান্ত ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বহু মানুষের অভিযোগ, তাঁদের কাছে এ সম্পর্কিত একটি এসএমএস আসছে। ২০২৫-২৬ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার (AY 2025-26)-এর এই মেসেজ বা মেলে লেখা রয়েছে, রিফান্ড বা অতিরিক্ত কাটা করের টাকা (যদি কিছু থাকে) ফেরত দেওয়া আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। যাকে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রসেস নামক একটি শব্দবন্ধ দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যে শব্দটি মাথায় ঢুকছে না রিটার্ন দাখিলকারীদের।
আয়কর দফতরের এই পদক্ষেপে করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করছেন। তাঁদের এই হতাশার কারণ একদিকে অ্যালার্টের ব্যাখ্যা বুঝতে পারছেন না কেউ। অন্যদিকে, অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বকেয়া রিফান্ডের টাকা কবে পাবেন, সেই সংক্রান্ত অনিশ্চয়তায়। এমনকী অ্যালার্টটি এমন সময় এসেছে, যখন রিভাইজড রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের শেষ সময়সীমাও নাকের ডগায় এসে গিয়েছে।
করদাতাদের সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫। এ কারণে অনেকেই এই সময় বৃদ্ধির দাবি তুলছেন। আপনিও যদি এরকমই একজন করদাতা হয়ে থাকেন, তাহলে জেনে নিন আসলে এই বার্তার প্রকৃত অর্থ কী এবং আপনাকে পরবর্তী কী পদক্ষেপ করতে হবে?
ITR refund on hold- এই শিরোনামে বার্তাটি আসছে এসএমএস কিংবা মেলে। এর মানে কোনও খুঁটিয়ে তদন্ত চলছে এরকমটা নয়। এর সহজ অর্থ হল, আয়কর আইনের ২৮৫ নম্বর সেকশনে বর্ণিত কোনও তথ্যের গরমিল অথবা উৎস থেকে কাটা কর (TDS)-এর হিসাব মিলছে না। মেসেজ বলতে চাইছে, যিনি রিটার্ন জমা দিয়েছেন, তাঁকে অবিলম্বে কোনও ভুলচুক হয়ে থাকলে তা সংশোধন-পরিমার্জন করে ফের জমা দিতে।
হিসাব বিশারদরা জানান, এটা হল প্রকৃতপক্ষে রিফান্ড দেওয়ার আগে একটি সত্যতা যাচাই পর্ব। আর এটা প্রথমবার, যখন সরকার গণহারে বার্তা পাঠানোর এরকম পদ্ধতি অবলম্বন করল। তাই অনেকেই হতভম্ব হয়ে পড়েছেন, এতে শঙ্কার কোনও কারণ নেই। বিশেষজ্ঞদরা আরও জানান, যেসব ক্ষেত্রে অনুদান বা চাঁদায় করছাড়ের প্রসঙ্গ থাকত, কেবলমাত্র সেইসব করদাতাকেই এই মেসেজ পাঠানো হতো। এটা একেবারেই রুটিন চেক।
যে ভুলগুলির জন্য রিটার্নকারীর তথ্য ও আয়কর দফতরের নাও মিলতে পারে, সেই সাধারণ জায়গাগুলি এরকম- প্রথমত, সুদ থেকে আয় যুক্ত না করা। এই অংশটি পাওয়া যাবে অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্টে (AIS)। দ্বিতীয়ত, ক্যাপিটাল গেইনস উল্লেখ নেই অথবা ভুল তথ্য দেওয়া আছে। তৃতীয়ত, ডিভিডেন্ড বাবদ প্রাপ্ত আয় দেওয়া হয়নি। চতুর্থত, ৮০সি/৮০ডি/৮০জি-তে বিশাল পরিমাণ ছাড়ের দাবি, যার সঙ্গে পূর্ববর্তী বছরগুলির বিশাল তারতম্য রয়েছে। পঞ্চমত, ভাড়ার উপর টিডিএস না কেটে হাউজ রেন্ট অ্যালাউন্সের ছাড় দাবি।