এতদিন ভারতে মহামারি মোকাবিলার ক্ষেত্রে অধিকাংশ পদক্ষেপই ছিল প্রতিক্রিয়াশীল, অর্থাৎ সংক্রমণ বাড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু ন্যাশনাল ওয়ান হেলথ মিশনের অধীনে নতুন এআই-ভিত্তিক পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে।

শেষ আপডেট: 11 February 2026 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি করোনার (covid) সম্মুখীন হওয়ার পর মহামারি মোকাবিলায় আরও কড়া প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত (India health policy)। ভবিষ্যতের সংক্রমণ আগেভাগে শনাক্ত করতে (pandemic prediction) বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)।
ন্যাশনাল ওয়ান হেলথ মিশন (National One Health Mission - NOHM)-এর আওতায় একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) নির্ভর উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য নতুন ও আগামীতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এমন রোগজীবাণুকে দ্রুত শনাক্ত করা (AI pathogen surveillance India)। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য স্পষ্ট, মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আগেই সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করা। বিশেষ করে প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ানো জুনোটিক রোগ, বিভিন্ন ভাইরাল সংক্রমণ, ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ এবং পরজীবীঘটিত রোগ, সবকিছুর ওপর নজর রাখা হবে।
শুধু মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ার অপেক্ষা না করে, এই নতুন ব্যবস্থা রোগের বিস্তার কীভাবে এবং কোথা থেকে শুরু হচ্ছে, তা আগেই অনুমান ও ট্র্যাক করার চেষ্টা করবে - মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ - তিন ক্ষেত্রেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, AI-ভিত্তিক এই 'প্যাথোজেন নজরদারি ব্যবস্থা' ভবিষ্যতে মহামারি মোকাবিলায় ভারতের কৌশল আমূল বদলে দিতে পারে।
কীভাবে হবে AI-নির্ভর প্যাথোজেন নজরদারি?
ন্যাশনাল ওয়ান হেলথ মিশনের অধীনে ICMR ইতিমধ্যেই উপযুক্ত সংস্থাগুলির কাছে ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ (EoI) জানিয়েছে। উদ্দেশ্য, এমন এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি তৈরি করা, যা নতুন ও সম্ভাব্য রোগজীবাণুকে দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।
এই পরিকল্পনায় মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য, প্রাণীদের রোগ সংক্রান্ত তথ্য এবং পরিবেশগত ডেটা, এই তিন উৎসকে একত্রে বিশ্লেষণ করে আগাম সতর্ক সংকেত ধরাই লক্ষ্য। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সেই সব জুনোটিক রোগকে, যা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়াল এবং পরজীবীঘটিত রোগও থাকবে নজরদারির আওতায়।
জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হওয়ায় প্রশাসন আশা করছে - রোগের অস্বাভাবিক বিস্তার, অচেনা সংক্রমণ ক্লাস্টার এবং পরিবেশগত কারণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ফলে রোগ ছড়ানোর প্যাটার্ন বুঝতে এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে সময় কম লাগবে।
কোন কোন রোগের ওপর নজর থাকবে
এই এআই টুলের নজরদারির পরিধি হবে বিস্তৃত।
ভাইরাল সংক্রমণের ক্ষেত্রে -
জিকা, নিপা এবং করোনাভাইরাসের মতো উৎস বা সম্ভাব্য সংক্রমণকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের মধ্যে -
অ্যানথ্রাক্স এবং প্লেগের মতো মারাত্মক রোগও নজরদারির তালিকায় রয়েছে।
পরজীবীঘটিত রোগের ক্ষেত্রে -
বিশেষ করে কালা আজারের মতো সংক্রমণ।
অর্থাৎ জুনোটিক, ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়াল এবং পরজীবী - চার ধরনের সংক্রমণকেই অন্তর্ভুক্ত করে এক বিস্তৃত সুরক্ষা বলয় তৈরি করাই লক্ষ্য।
প্রতিক্রিয়াশীল নয়, এবার পূর্বাভাসভিত্তিক ব্যবস্থা
এতদিন ভারতে মহামারি মোকাবিলার ক্ষেত্রে অধিকাংশ পদক্ষেপই ছিল প্রতিক্রিয়াশীল, অর্থাৎ সংক্রমণ বাড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু ন্যাশনাল ওয়ান হেলথ মিশনের অধীনে নতুন এআই-ভিত্তিক পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে।
মানুষের মধ্যে রোগ ছড়ানোর পরিবেশগত কারণগুলিকেও এই নজরদারির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন উৎসের ডেটা একত্রে বিশ্লেষণ করে এআই এমন অস্বাভাবিক প্রবণতা শনাক্ত করতে পারবে, যা সাধারণত নজর এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
সব মিলিয়ে, এই উদ্যোগ ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে প্রতিক্রিয়াশীল মডেল থেকে সরিয়ে পূর্বাভাসভিত্তিক নজরদারির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সংকটের অপেক্ষা না করে আগেই সতর্ক হওয়াই মূল লক্ষ্য।