গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় খাদ্যতালিকায় গড়ে ৬২% ক্যালোরি কার্বোহাইড্রেট থেকে আসে, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 October 2025 15:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয়দের চিরাচরিত খাদ্যাভ্যাসেই (Indian diet) বাড়ছে ডায়াবেটিস ও ওবেসিটির (মোটা হয়ে যাওয়া) (diabetes and obesity) মতো বিপজ্জনক অসুখ - এমনটাই উঠে এসেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ-ইন্ডিয়া ডায়াবেটিস (ICMR-INDIAB)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষায়।
দেশজুড়ে ৩৬টি রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও দিল্লির মোট ১,২১,০৭৭ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে চালানো এই সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে Nature Medicine-এ।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় খাদ্যতালিকায় গড়ে ৬২% ক্যালোরি কার্বোহাইড্রেট থেকে আসে, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বেশি ভাত খাওয়া হয় দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে। উত্তর ও মধ্য ভারতে বেশি খাওয়া হয় গম। তুলনামূলকভাবে পুষ্টিকর হলেও বাজরা জাতীয় শস্য কেবল কর্নাটক, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে প্রধান খাদ্য।
চিনির ব্যবহারও উদ্বেগজনক। ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমা (মোট ক্যালোরির ৫%-এর কম) অতিক্রম করেছে।
অতিরিক্ত ভাত, গম ও চিনি খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিস, প্রি-ডায়াবেটিস ও ওবেসিটির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। চর্বি বা ফ্যাট খাওয়ার পরিমাণ সাধারণত সীমার মধ্যে থাকলেও, স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বির ব্যবহার দেশে প্রায় সর্বত্রই স্বাভাবিক সীমা ছাড়িয়েছে। তবে মনো-আনস্যাচুরেটেড ও ওমেগা-৩ ফ্যাটের গ্রহণ অত্যন্ত কম।
প্রোটিন ঘাটতিও মারাত্মক। গড়ে দৈনিক ক্যালোরির মাত্র ১২% প্রোটিন থেকে আসে, যার বড় অংশই ভাত-ডাল জাতীয় উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে। দুগ্ধজাত খাবার থেকে প্রোটিন আসে মাত্র ২%, আর মাংসজাত উৎস থেকে মাত্র ১%। উত্তর-পূর্ব ভারতে তুলনামূলক প্রোটিন গ্রহণ বেশি হলেও দেশজুড়ে প্রোটিন ঘাটতি স্পষ্ট।
গবেষক আর. এম. অঞ্জনা বলেন, “শুধু ভাত বাদ দিয়ে গম বা বাজরায় গেলে হবে না। কার্বোহাইড্রেটের মোট পরিমাণ কমাতে হবে, আর বেশি ক্যালোরি আসতে হবে উদ্ভিজ্জ ও দুগ্ধজাত প্রোটিন থেকে।”
গবেষক ভি. মোহনও সতর্ক করেছেন, “এখনই নীতি পরিবর্তনের সময়। খাদ্য ভর্তুকি ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে মানুষ কম কার্বোহাইড্রেট ও কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট খেয়ে বেশি প্রোটিন গ্রহণ করেন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনিক কার্বোহাইড্রেট থেকে মাত্র ৫% ক্যালরি কমিয়ে তার জায়গায় উদ্ভিজ্জ বা দুগ্ধজাত প্রোটিন নিলে ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।