খাবারের অসংখ্য অপশন, ক্যালোরি ও প্রোটিন একসঙ্গে মেলানো, সবকিছু হিসেব রাখা - এসবের কারণে কাজটা কঠিন মনে হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 September 2025 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রোটিন (Protein) শুধু মাংসপেশি, হাড়, ত্বক এবং চুলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, খাবারের এই বিশেষ উপাদান সার্বিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্যও অপরিহার্য। তবে বেশ কিছু লক্ষণ আছে, যা থেকে বোঝা সম্ভব শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি (protein deficiency) হচ্ছে কিনা। পর্যাপ্ত প্রোটিন না খাওয়ার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে, যা মিষ্টি খাবারের প্রতি ক্রেভিংস বাড়ায়, এমনকী ওজন বাড়তে পারে ওজনও।
AIIMS-এর গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট সৌরভ শেঠি, (হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতেও কাজ করেছেন) তার ২৬ সেপ্টেম্বরের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, “আপনার ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে ৬টি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, প্রোটিন শক্তি বজায় রাখতে অপরিহার্য। রোজের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে দিনের বিভিন্ন সময়ে ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
ডাঃ শেঠি আরও জানালেন, প্রোটিন আপনার দেহের বিপাক ক্রিয়াকে সচল রাখে। পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে বিপাক ধীর হয়ে যায়, যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, প্রতিদিন কমপক্ষে প্রতি কেজি শরীরের ওজন অনুযায়ী এক গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত, আর তা তিনটি মূল খাবারে ভাগ করে খাওয়াই ভাল।
৬টি লক্ষণ যা পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাবের ইঙ্গিত দেয়:
• রক্তে শর্করা কমে যাওয়া এবং মিষ্টির ক্রেভিং: প্রোটিনের অভাব রক্তের শর্করার মাত্রা কমায়, যা মিষ্টি খাবারের প্রতি লোভ বাড়ায়।
• দিনভর ক্লান্তি: পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয় এবং সারাদিন ক্লান্ত লাগে।
• ওজন বৃদ্ধি: প্রোটিনের অভাবে দেহের বার্ন রেট কমে যায়, যা সহজেই ওজন বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যায়।
• রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া: প্রোটিনের অভাব ঘন ঘন সর্দি, কাশি ও ফ্লু-এর মতো লক্ষণ তৈরি করতে পারে।
• চুল ও নখের দুর্বলতা: প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে চুল ও নখ দুর্বল করে, সহজেই ভেঙে পড়ে।
• মেজাজ পরিবর্তন: প্রোটিন সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাবে মেজাজ চরম ওঠানামা করতে পারে।
ডাঃ শেঠি পরামর্শ দিয়েছেন, প্রতিদিন অন্তত এক কেজি শরীরের ওজন অনুযায়ী প্রোটিন গ্রহণ করুন এবং এটি তিনটি প্রধান খাবারে সমানভাবে ভাগ করুন।
অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান, কীভাবে ক্যালোরি না বাড়িয়ে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো যায়? খাবারের অসংখ্য অপশন, ক্যালোরি ও প্রোটিন একসঙ্গে মেলানো, সবকিছু হিসেব রাখা - এসবের কারণে কাজটা কঠিন মনে হয়। অথচ সঠিক খাবার বাছাই, কিছু ছোট পরিবর্তন আর পরিকল্পিত ডায়েটেই সহজে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তাতেই কমবে ওজনও।