Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গীতা ও চণ্ডীতে যেভাবে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন ভগবান৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটো

জরুরি ওষুধের অপব্যবহার বাড়ছে, অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হোক শুধু হাসপাতাল থেকে, পরামর্শ ICMR-এর

টিউবারকুলোসিস (টিবি) চিকিৎসায় কড়াকড়ি ও নজরদারি কার্যকর হয়ে ওঠায় ওষুধের কার্যকারিতা কিছুটা টিকে আছে, এটাই দেখায় যে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হতে পারে।

জরুরি ওষুধের অপব্যবহার বাড়ছে, অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হোক শুধু হাসপাতাল থেকে, পরামর্শ ICMR-এর

প্রতীকী ছবি

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 17 September 2025 13:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের শীর্ষ স্বাস্থ্যগবেষণা সংস্থা ICMR (Indian Council of Medical Research) সতর্ক করে বলেছে, নতুনভাবে বাজারে আনা অ্যান্টিবায়োটিকগুলো (antibiotic) সাধারণ রিটেইল ফার্মেসি (retail pharmacy) থেকে না বিক্রি করে, তা শুধুমাত্র নির্বাচন করা হাসপাতালের ফার্মেসি ও হাসপাতালবহির্ভূত নিয়মিত তত্ত্বাবধানে সরবরাহ করা হোক। Journal of Global Health-এ প্রকাশিত ICMR-এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (Antimicrobial Resistance) বিভাগীয় প্রতিবেদনে এই সুপারিশটি করা হয়েছে। সুপারিশের পিছনে কারণ স্পষ্ট - অতিরিক্ত ব্যবহার ও অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহের ফলে ‘লাইফ-সেভিং’ ওষুধগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ দ্রুত গড়ে উঠছে।

AMR কি এবং কেন ভয় বাড়ছে?

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) তখনই ঘটে যখন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাসের মতো জীবাণু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ওষুধ থেকে বাঁচার কৌশল আয়ত্ত করে ফেলে। ফলাফল — অতি সাধারণ সংক্রমণও চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া হারায় এবং জীবনহানির ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিমধ্যেই AMR-কে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকিরূপে চিহ্নিত করেছে। ভারতের পরিস্থিতি এই ক্ষেত্রে বেশ উদ্বেগজনক। ICMR-এর তথ্য বলছে, Klebsiella pneumoniae-র মধ্যে কার্বাপেনেমের (অ্যান্টিবায়োটিক) প্রতি প্রতিরোধের হার ৬২.৩%–এ পৌঁছেছে। একইভাবে E. coli–র ওপর ইমিপেনেম ও পাইপেরাসিলিন-টাজোব্যাকটামের প্রতি প্রতিরোধগত প্রবণতা গত ছয় বছরে তীব্রভাবে বেড়েছে।

বিশ্বব্যাপী গবেষণা গ্রুপ GRAM (Global Research on Antimicrobial Resistance) অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০১৯ সালে ব্যাকটেরিয়ার AMR-এর কারণে ভারতে প্রায় ৩ লক্ষ থেকে ১০.৪ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। সেই বছরে মাত্র ছয়টি ‘সুপারবাগ’ — E. coli, Klebsiella pneumoniae, Staphylococcus aureus, Acinetobacter baumannii, Mycobacterium tuberculosis এবং Streptococcus pneumoniae - সংক্রমণেই ২.১৪ লক্ষেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে।

প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিকের সহজলভ্যতা, অযথা প্রেসক্রিপশন, ফার্মাসিস্ট বা ডাক্তারদের অনাগ্রহ বা অবহেলার প্রেসক্রাইবিং অভ্যাস - এগুলোই মূল কারণ। ভারতের ২০১১-এর জাতীয় নীতি (National Policy for Containment of Antimicrobial Resistance), Schedule H1, ঔষধের প্যাকেটে ‘রেড লাইন’ প্রচার এবং National List of Essential Medicines-এ সংশোধন-সহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবু প্রয়োগের তেমন কড়াকড়ি না থাকার কারণে ফল আংশিকই মিলেছে। টিউবারকুলোসিস (টিবি) চিকিৎসায় কড়াকড়ি ও নজরদারি কার্যকর হয়ে ওঠায় ওষুধের কার্যকারিতা কিছুটা টিকে আছে, এটাই দেখায় যে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হতে পারে।

কেন হাসপাতাল-ভিত্তিক বিক্রি প্রস্তাব করা হচ্ছে?

ICMR-এর যুক্তি, নতুন অ্যান্টিবায়োটিকগুলো যদি রিটেইলে মুক্তভাবে চলে আসে, তা অল্পতেই অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহার হবে এবং দ্রুত প্রতিরোধ বাড়বে। হাসপাতালে সরাসরি তত্ত্বাবধানে ওষুধের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব - সঙ্গে রোগীর পর্যবেক্ষণ, কালচার ও সেনসিটিভিটি রিপোর্ট, এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ভিত্তিতেই ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া যাবে। এই মডেল টিবি নিয়ন্ত্রণে যেভাবে কাজ করেছে, সেরকম কড়াকড়ি নতুন অ্যান্টিবায়োটিকগুলোকেও বাঁচাতে পারে।

বিশেষ শ্রেণিবিভাগ — WHO-র AWaRe ফ্রেমওয়ার্ক

WHO অ্যান্টিবায়োটিককে তিন ভাগে ভাগ করে - Access (প্রাথমিক ব্যবহারের, নিরাপদ ও সস্তা), Watch (উচ্চ প্রতিরোধ-সংকটের ঝুঁকি, সাধারণত হাসপাতাল-স্তরে সতর্কতা প্রয়োজন) এবং Reserve (শেষ-আশা, বহুমুখী-প্রতিরোধী সংক্রমণের জন্য)। ভারতের একটা বড় সরকারি পরিসংখ্যানে (২০২৪) দেখা গিয়েছে, প্রেসক্রিপশনে ৫৭% অ্যান্টিবায়োটিকই Watch বা Reserve শ্রেণির, অর্থাৎ সেসবই বেশি সতর্কতার দাবিদার।

ICMR-এর পরামর্শ?

ICMR-এর গবেষকরা বলছেন, নতুন অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে আনলে তা কেবল নিয়ন্ত্রিত হাসপাতাল ফার্মেসি সিস্টেমে দিতে হবে। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত ফার্মেসি-নোডে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি কড়া নজরদারি, রিপোর্টিং এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল stewardship কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। তাদের মত অনুযায়ী, সতর্ক ও শক্তভাবে প্রয়োগ করা হলে নতুন ওষুধগুলোর কার্যকারিতা দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে পারে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ

এই সুপারিশ প্রয়োগে রিটেইল-অ্যাক্সেসে সীমাবদ্ধতার ফলে সাধারণ রোগী ও গ্রামীণ অঞ্চলের চিকিৎসাপ্রবাহে প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য হাসপাতাল নেটওয়ার্ক, সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতালের ফার্মেসি শক্ত করা, এবং টিকাগুলোর মতো তত্ত্বাবধানে ওষুধ দেওয়ার পদ্ধতি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি, গ্রামীণ ও প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে নিবিড় মনিটরিং, ল্যাব-সংযোগ এবং চিকিৎসা-রেকর্ডিং প্রয়োজন।


```