২০২৫ সালে পহলগাম জঙ্গি হামলার (Pahalgam terror attack) জবাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor)-এর প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
.jpeg.webp)
তিনি বলেন, এই সরকার দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রশাসন গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে।
শেষ আপডেট: 28 January 2026 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদে শুরু হল কেন্দ্রীয় বাজেট অধিবেশন ২০২৬–২৭। অধিবেশনের সূচনালগ্নের ভাষণে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর সরকারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। যৌথ অধিবেশনের সামনে রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক ন্যায়বিচার, সর্বাত্মক বিকাশ ও উন্নয়নশীল ভারতের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সরকার দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রশাসন গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে।
দেশ থেকে মাওবাদী সন্ত্রাস (Maoist terror) নির্মূল করার দিন আর বেশি দূরে নয় বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu)। মাওবাদ দমনে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের ১২৬টি জেলায় ভয় ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। মাওবাদী আদর্শ (Maoist ideology) বহু প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল। রাষ্ট্রপতির কথায়, বর্তমানে মাওবাদীদের প্রভাব মাত্র ৮টি জেলায় সীমাবদ্ধ। গত এক বছরে প্রায় ২ হাজার মাওবাদী (Maoist-linked cadres) আত্মসমর্পণ করেছেন বলেও জানান তিনি।
২০২৫ সালে পহলগাম জঙ্গি হামলার (Pahalgam terror attack) জবাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor)-এর প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর (Indian Armed Forces) বীরত্ব প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। গুরু তেগ বাহাদুরের বাণী— ‘ভয় কাউকে দিও না, নিজেও ভয় পেও না’ (bhay kahun ko deit nehn nehn bhay manat aan) কথাটি উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই নির্ভীক মানসিকতা ও চেতনার জোরেই ভারত নিজের নিরাপত্তা (national security) সুনিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রপতির কথায়, নিজস্ব সম্পদ ও শক্তির উপর ভর করেই ভারত সন্ত্রাসের ঘাঁটি (terror hotbeds) ধ্বংস করেছে। তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Water Treaty) স্থগিত রাখাও ভারতের কৌশলগত পদক্ষেপ।
পারমাণবিক শক্তির (nuclear energy) পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ (solar energy) ক্ষেত্রেও ভারত দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। সংসদের যৌথ অধিবেশনে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত দেশে প্রায় ২০ লক্ষ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা (rooftop solar systems) স্থাপন করা হয়েছে।
সরকারের প্রগতিশীল মানসিকতা ও নীতির প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের (women empowerment) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চোখে পড়ছে। তিনি জানান, ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (National Defence Academy)-এর প্রথম ব্যাচের মহিলা ক্যাডেটদের পাশ করা দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ভারতের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে নারীর শক্তি (naari shakti) সর্বাগ্রে রয়েছে বলে তিনি জোর দেন।
রাষ্ট্রপতি ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলকে (Indian women’s cricket team) বিশ্বকাপ (ICC ODI World Cup) জয়ের জন্য এবং দৃষ্টিহীন মহিলা ক্রিকেট দলকে (blind women’s cricket team) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) জয়ের জন্য অভিনন্দন জানান।
বাবাসাহেব আম্বেদকরের (B R Ambedkar) সমতা ও সামাজিক ন্যায়ের (social justice) আদর্শ স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবিধান (Constitution) আজও আমাদের সেই একই চেতনায় অনুপ্রাণিত করে। রাষ্ট্রপতির মতে, প্রকৃত সামাজিক ন্যায় মানে কোনও বৈষম্য ছাড়াই দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা। গত ১০-১১ বছরে ভারত প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের ভিত্তি আরও শক্ত করেছে বলে তিনি জানান।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা (corruption-free system) গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে পাইপয়সা সঠিকভাবে ব্যয় নিশ্চিত করতে সরকার সফল হয়েছে। বাজেট অধিবেশনের সূচনায় সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জল, স্থল এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ভারতের দ্রুত অগ্রগতি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয়।
তিনি জানান, অটলবিহারী বাজপেয়ীর (Atal Bihari Vajpayee) উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (Pradhan Mantri Gram Sadak Yojana)-র আওতায় শুধু গত এক বছরেই প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তা তৈরি হয়েছে।
গত বছরে ৩৫০ মিলিয়ন টনেরও বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদনের (foodgrain production) কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, ভারত বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম চাল উৎপাদক (largest rice producer) দেশ। তিনি বলেন, নীল অর্থনীতিতে (blue economy) সাফল্যের ফলস্বরূপ ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদক (second-largest fish producer) দেশে পরিণত হয়েছে। সমবায় আন্দোলনের (cooperative movement) জোরে দুধ উৎপাদনেও (milk production) ভারত বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে। এছাড়াও, মোবাইল উৎপাদনে (mobile manufacturing) বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থানকে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, নাগরিকদের বিমা সুরক্ষা (insurance security) নিশ্চিত করতে সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা (Pradhan Mantri Jeevan Jyoti Bima Yojana) এবং প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা (Pradhan Mantri Suraksha Bima Yojana)-র মাধ্যমে কোটি কোটি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ বিমার আওতায় এসেছেন। রাষ্ট্রপতির কথায়, এখনও পর্যন্ত ২৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিমা দাবি (insurance claims) মেটানো হয়েছে, যা সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার শক্ত ভিতকে তুলে ধরে।
প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনধারণের মান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রশংসা করেন। তাঁর কথায়, আয়ুষ্মান ভারত-সহ নানা সামাজিক প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন দেশের কোটি কোটি মানুষ। রাষ্ট্রপতি বলেন, মোদী সরকার কেবল সামাজিক কল্যাণেই নয়, পরিকাঠামো উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো আধুনিক ট্রেন চালু করা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার উদ্যোগকেও তিনি সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন।
অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মুর্মু বলেন, এই সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে পেরে আমি আনন্দিত। গত বছরটি ভারতের দ্রুত অগ্রগতি ও ঐতিহ্যের উৎসব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সারা দেশে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। এই মহান অনুপ্রেরণার জন্য দেশবাসী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। সংসদে এ নিয়ে বিশেষ আলোচনা আয়োজন করার জন্য আমি সকল সাংসদকে অভিনন্দন জানাই।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। বাজেট অধিবেশন শুরুর দিনে সংসদের দুই কক্ষে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৯৫ কোটি ভারতীয় নাগরিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। সরকারের পরিকাঠামোগত অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
২০২৬ সালকে ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিবর্ষ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, এই শতকের প্রথম ২৫ বছরের শেষ পর্বে ভারত বহু সাফল্য, গর্বের অর্জন এবং অসাধারণ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছে। গত ১০-১১ বছরে দেশ প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদের ভাষণে VB G RAM G বিল–এর উল্লেখ করতেই সংসদে তীব্র হট্টগোল শুরু হয়।
বিরোধী দলের সাংসদরা সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। রাষ্ট্রপতি বলেন, এই বিলের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এতে দুর্নীতির কোনও সুযোগ থাকবে না। তবে তাঁর এই দাবিকে ঘিরেই বিরোধী সাংসদরা আপত্তি তোলেন এবং সংসদের দুই কক্ষেই জোরাল কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।