রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর সনিয়া গান্ধীকে দলের সভানেত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশের পশ্চিম প্রান্ত থেকে যে মানুষটি জোরাল গলায় আওয়াজ তুলেছিলেন, তাঁর নাম ছিল প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শারদ পাওয়ার। সে সময় শারদের একটি হাত যে কাঁধের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস ভেঙে নতুন দল গঠন করেছিল, তাঁর নাম অজিত পাওয়ার।

অজিত পাওয়ার স্ত্রী ও দুই ছেলের সঙ্গে (বাঁদিকে)। ডানদিকে স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। নীচে বাঁদিকে রাজনৈতিক গুরু কাকা শারদ পাওয়ারের সঙ্গে। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 28 January 2026 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর সনিয়া গান্ধীকে দলের সভানেত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশের পশ্চিম প্রান্ত থেকে যে মানুষটি জোরাল গলায় আওয়াজ তুলেছিলেন, তাঁর নাম ছিল প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শারদ পাওয়ার। সে সময় শারদের একটি হাত যে কাঁধের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস ভেঙে নতুন দল গঠন করেছিল, তাঁর নাম অজিত পাওয়ার। একসময় যাঁকে দেশের মানুষ পাওয়ারের ভাইপো বলে চিনত। সেই রাজনৈতিক গুরু কাকাকেই পিছন থেকে ছুরি মেরে, নতুন জোটে গিয়ে, পরিবারের চৌকাঠ পেরিয়ে, স্বজনদের ছেড়ে, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন অজিত। আজ, তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে ফের উসকে উঠেছে পুরনো সেইসব দিনের কথা।
আচমকা সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে, যখন অজিত পাওয়ারের পরিবর্তে দলের নেতৃত্ব শারদ তুলে দেন নিজের কন্যা সুপ্রিয়া সুলের হাতে। তবে এনসিপি ভেঙে দুই শিবিরে বিভক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে সেই সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছিল অজিত পাওয়ার, তাঁর কাকা শরদ পাওয়ার এবং খুড়তুতো বোন সুপ্রিয়া সুলের মধ্যে। সেই সমঝোতারই প্রতিফলন দেখা যায় পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচনে, যেখানে দুই এনসিপি শিবির একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যৌথভাবে পুরসভা নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা প্রথম করেন স্বয়ং সুপ্রিয়া সুলে। নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ অনুযায়ী, অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি পায় ‘ঘড়ি’ প্রতীক, আর শারদ পাওয়ার শিবিরের এনসিপি (এসপি) পায় ‘তূর্য’ (trumpet) প্রতীক।
জুন ২০২৩-এ অজিত পাওয়ার এনসিপির বড় অংশ নিয়ে শিন্ডে–ফড়নবিশ সরকারের শরিক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেই পরিবার ও দল দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক সমঝোতা দলীয় কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রয়াত অজিত পাওয়ারই মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বার উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়েছেন। ২০২৪ সালে অজিত পাওয়ার ষষ্ঠবারের জন্য মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হন। এর আগে প্রথমবার তিনি এই পদে আসীন হন ২০১০ সালে।
অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। গোটা রাজ্যজুড়ে এই পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তৃত। তিনি এনসিপি (শারদ পাওয়ার শিবির)-এর সভাপতি শারদ পাওয়ারের ভাইপো। তবে ২০২৪ সালে কাকার শিবির ছেড়ে বিজেপি–শিবসেনা জোটে যোগ দেন তিনি এবং উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ পান।
রাজনীতিতে না এলে অজিত পাওয়ারের জায়গা হতে পারত চলচ্চিত্র জগতে। তাঁর বাবা অনন্তরাও পাওয়ার বলিউডের প্রখ্যাত পরিচালক ভি শান্তারাম–এর সঙ্গে রাজকমল স্টুডিওতে কাজ করতেন। কিন্তু সিনেমার পথ ছেড়ে রাজনীতিকেই বেছে নেন অজিত পাওয়ার। কাকা শারদ পাওয়ারের কাছ থেকেই রাজনীতির পাঠ নিয়ে তিনি রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হন।
অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার, যিনি প্রাক্তন মন্ত্রী পদ্মসিং বাজিরাও পাটিলের বোন। তাঁদের দুই পুত্র— বড় ছেলে পার্থ পাওয়ার এবং ছোট ছেলে জয় পাওয়ার। পার্থ মহারাষ্ট্রের মাভাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন। জয় পাওয়ার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন।
অজিত পাওয়ারের দাদা শ্রীনিবাস পাওয়ার একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি। কৃষি থেকে অটোমোবাইল—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর ব্যবসা রয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনি নিয়মিত অজিত পাওয়ারকে পরামর্শ দিতেন বলেও জানা যায়। অজিতের বোন বিজয়া পাতিল যুক্ত রয়েছেন মিডিয়া জগতের সঙ্গে।
শারদ পাওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলে বর্তমানে এনসিপি নেত্রী ও সাংসদ। ২০২৩ সালে অজিত পাওয়ার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় সুপ্রিয়া সুলে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে অজিত পাওয়ার আমার কাছে সবসময় দাদাই থাকবেন। আমাদের সম্পর্ক কখনও বদলাবে না।