গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এনসিপি (পাওয়ার) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে। নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন— “Devastated” (বিধ্বস্ত)।

শারদপন্থী এনসিপি সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই সুপ্রিয়া সুলে দলীয় নেতা প্রফুল্ল প্যাটেল, তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা এবং ছেলে পার্থকে সঙ্গে নিয়ে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দেন।
শেষ আপডেট: 28 January 2026 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) নেতা অজিত পাওয়ারের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ রাজ্য রাজনীতি। পুণের বারামতী এলাকায় বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এনসিপি (পাওয়ার) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে। নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন— “Devastated” (বিধ্বস্ত)।
শারদপন্থী এনসিপি সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই সুপ্রিয়া সুলে দলীয় নেতা প্রফুল্ল প্যাটেল, তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা এবং ছেলে পার্থকে সঙ্গে নিয়ে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দেন। যে বিমানে অজিত পাওয়ার যাচ্ছিলেন, তাতে তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচজন ছিলেন। বারামতী বিমানবন্দরে ওই বিমানটি জরুরি অবতরণ করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনায় বিমানে থাকা ছয়জনেরই মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ৬৬ বছর বয়সি অজিত পাওয়ার মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলা জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে একাধিক জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দশকের পর দশক ধরে মহারাষ্ট্রের সমবায় আন্দোলন, গ্রামীণ রাজনীতি এবং মুম্বই-দিল্লির ক্ষমতার সমীকরণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে এসেছে পাওয়ার পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে ঐক্যবদ্ধ থাকলেও, ২০২৩ সালে প্রকাশ্যে ভাঙন ধরে পরিবারে। অজিত পাওয়ার এনসিপিতে বড়সড় ভাঙন ঘটিয়ে কাকা শরদ পাওয়ারের শিবির ছেড়ে বিজেপি–শিবসেনা জোটে যোগ দেন।
সেই সময়ে সমালোচকদের একাংশের দাবি ছিল, দলের অন্দরমহলে সুপ্রিয়া সুলের উত্থানই এই বিভেদের অন্যতম কারণ। বারামতীর সাংসদ ও এনসিপির জাতীয় মুখ হিসেবে সুপ্রিয়া সুলে পরিচিত ছিলেন সংযত, স্পষ্টভাষী এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নেত্রী হিসেবে। অন্যদিকে, অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে উঠেছিল সাহসী ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতার মধ্য দিয়ে।
তবে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিভাজনের পরও ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনও ফাটল নেই বলেই সে সময় জানিয়েছিলেন সুপ্রিয়া সুলে। তিনি বলেছিলেন, রাজনীতির মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে টেনে আনা উচিত নয়। এনসিপি ও অজিত পাওয়ারের লড়াই আদর্শগত, ব্যক্তিগত নয়। সম্প্রতি পুণে পুরসভা নির্বাচনের আগেও সুপ্রিয়া সুলে দাবি করেন, তাঁদের পরিবারে কখনও কোনও সমস্যা ছিল না। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই নির্বাচনে অজিত পাওয়ারের এনসিপি এবং শারদ পাওয়ারের এনসিপি (এসপি) জোটবদ্ধভাবেই পুণে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচনে লড়াই করেছিল।