বুধবার সকালে পুণে জেলার বারামতীর কাছে এক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar)। মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে যাত্রাপথে তাঁর বিমানটি জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিল বলে জানা গেছে।

প্রয়াত অজিত পাওয়ার
শেষ আপডেট: 28 January 2026 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খবরটা যেন প্রথম ধাক্কায় বিশ্বাস করার মতোই নয়। অনেকে করেনও নি। বরং চমকে উঠেছিলেন। চনমনে সদাব্যস্ত মানুষটাকে কালকেও সচিবালয়ে দেখা গেছে। আজ তিনি আর নেই। বুধবার সকালে পুণে জেলার বারামতীর কাছে এক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar)। মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে যাত্রাপথে তাঁর বিমানটি জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিল বলে জানা গেছে। সেই সময়ই দুর্ঘটনাটি ঘটে (Ajit Pawar Plane crash)। ঘটনায় দুই পাইলট ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরাও প্রাণ হারিয়েছেন বলে রিপোর্ট।
মঙ্গলবারই মুম্বইয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের নেতৃত্বে মহারাষ্ট্র ক্যাবিনেট কমিটি অন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন অজিত পাওয়ার। পরদিন সকালেই এই মর্মান্তিক খবর রাজ্য রাজনীতিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
বারামতী থেকে মুম্বই—এক দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা
বারামতীর ‘দাদা’ নামে পরিচিত অজিত পাওয়ার ১৯৯১ সাল থেকে বারামতী আসনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। লোকসভা ও বিধানসভা—দু’ক্ষেত্রেই এই কেন্দ্র থেকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই আহমেদনগর জেলার দেওলালি প্রভরায়ে জন্ম অজিত পাওয়ারের। কাকা শরদ পাওয়ারের হাত ধরেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও বেড়ে ওঠা। পরে নিজের সংগঠনী শক্তি ও প্রশাসনিক দক্ষতায় অজিত হয়ে ওঠেন মহারাষ্ট্র রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ। বলতে গেলে, পুণে ও আশপাশের জেলায় রাজনৈতিক ভাবেই দাদাগিরি ছিল অজিতের।
সমবায়, জেলা ব্যাঙ্ক, সেচ, অর্থ—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন অজিত পাওয়ার। বহুবার উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি রাজ্যের বাজেট ও নীতিনির্ধারণে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন।
জোট রাজনীতি ও ভাঙনের কেন্দ্রবিন্দু
২০১৯ সালের ভোররাতের নাটকীয় সরকার গঠন থেকে শুরু করে ২০২৩ সালে এনসিপি ভাঙন—অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক জীবন বারবার শিরোনামে এসেছে। একনাথ শিন্ডে সরকারের সঙ্গে যোগ দিয়ে ‘মহাযুতি’ জোটের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে ওঠেন অজিত। ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-শিবসেনার সঙ্গে লড়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও পান।
রাজনীতিতে শূন্যতা
দ্রুত কাজের ধরন, সরাসরি জনসংযোগ আর বারামতীতে অটুট দখল—এই তিনে ভর করেই দীর্ঘদিন প্রভাব বজায় রেখেছিলেন অজিত পাওয়ার। তাঁর প্রয়াণে মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে যে বড়সড় শূন্যতা তৈরি হল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। জোট সমীকরণ, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য—সবকিছুর উপরই এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।