হাপুরের বাসিন্দা সচিনকে (৩৫) তাঁর পরিবার নেশামুক্তি কেন্দ্রেই (De Addiction Centre) ভর্তি করে। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি।

অস্ত্রোপচার করে বের করা হয় চামচ, টুথব্রাশ, পেন
শেষ আপডেট: 25 September 2025 19:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজিয়াবাদের (Gaziabad) এক নেশামুক্তি কেন্দ্রে (Rehab) চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ৩৫ বছরের এক ব্যক্তির পেট থেকে অপারেশন করে বের করা হল ২৯টি স্টিলের চামচ, ১৯টি টুথব্রাশ এবং দু’টি কলম। দীর্ঘ দিন ধরে পেটে ব্যথা অনুভব করার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ধরা পড়ে অবিশ্বাস্য কাণ্ড।
হাপুরের বাসিন্দা সচিনকে (৩৫) তাঁর পরিবার নেশামুক্তি কেন্দ্রেই (De Addiction Centre) ভর্তি করে। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। অভিযোগ, নেশামুক্তি কেন্দ্রে খাবারের পরিমাণ অত্যন্ত কম দেওয়া হত। সচিনের কথায়, “সারাদিনে দু’-একটা রুটি আর অল্প সবজি দিত। অনেক সময় বাড়ি থেকে যা আসত, তা আমাদের হাতে পৌঁছতই না। কখনও কখনও সারাদিনে একটা বিস্কুট মিলত।”
খাবারের এই টানাটানিতে এবং পরিবার তাঁকে রিহ্যাবে পাঠানোয় রাগে অদ্ভুত কাণ্ড শুরু করেন সচিন (UP News)। তিনি সেখানকার স্টিলের চামচ লুকিয়ে বাথরুমে গিয়ে টুকরো টুকরো করে গিলে ফেলতেন। কখনও জল খেয়ে সেটিকে পেটের ভিতর নামিয়ে দিতেন। শুধু চামচই নয়, তিনি একের পর এক টুথব্রাশ আর পেনও গিলে ফেলতে শুরু করেন।
কিছু দিন পর থেকেই সচিন পেটের তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকেন। তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এক্স-রে ও সিটি-স্ক্যানের পর দেখা যায়, পেট ভর্তি চামচ, টুথব্রাশ আর পেন। চিকিৎসকরা প্রথমে এন্ডোস্কোপি করে সেগুলি বার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু সংখ্যায় এত বেশি থাকায় তাতে সাফল্য মেলেনি।
অবশেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একে একে বের করা হয় ২৯টি চামচ, ১৯টি টুথব্রাশ এবং দু’টি পেন। অস্ত্রোপচারে যুক্ত চিকিৎসক ড. শ্যাম কুমার জানান, “এ ধরনের সমস্যা সাধারণত মানসিক অসুস্থতায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়। সচিনও মানসিক সমস্যার কারণে এমন আচরণ করেছেন।” চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় নেশামুক্তি কেন্দ্রের খাবার ও পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।