অভিযোগ, সাজানো ঘটনায় এক ব্যবসায়ী পরিবারকে ফাঁসিয়ে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল, তারপর সেখান থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার চেষ্টা চলছিল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 25 December 2025 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্লীলতাহানির ভুয়ো অভিযোগে ফাঁসিয়ে ১০ কোটি টাকা আদায়ের ছক! মুম্বইয়ে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় দুই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেল (Mumbai anti extortion cell arrest)। অভিযোগ, সাজানো ঘটনায় এক ব্যবসায়ী পরিবারকে ফাঁসিয়ে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল, তারপর সেখান থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার চেষ্টা চলছিল (Fake molestation extortion case)।
গ্রেফতার হওয়া দুই মহিলার নাম হেমলতা আদিত্য পাটকর ওরফে হেমলতা বানে (৩৯) এবং আমরিনা ইকবাল জাভেরি ওরফে অ্যালিস ওরফে আমরিনা ম্যাথিউ ফার্নান্ডেজ (৩৩)। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পাল্টা ফাঁদ পাতে। ঘুষের টাকা নিতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়ে অভিযুক্তরা।
এই মামলার অভিযোগকারী অরবিন্দ গোয়াল, গোরেগাঁও ওয়েস্টের বাসিন্দা। তিনি ‘Goyal & Sons Infra LLP’ নামে একটি সংস্থার মালিক। তাঁর ছেলে ঋতম গোয়ালের বাগদান হয় ৫ নভেম্বর, যশ্বী শাহর সঙ্গে।
এই উপলক্ষে ১৪ নভেম্বর রাতে আম্বোলি এলাকার একটি হোটেলে পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। পার্টি শেষে ১৫ নভেম্বর ভোর আনুমানিক ২টো ৪০ নাগাদ, ঋতম, তাঁর হবু স্ত্রী যশ্বী, যশ্বীর ভাই এবং এক বন্ধু লিফটে করে নীচে নামছিলেন। সেই সময়ই এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলা লিফটে ওঠেন।
অভিযোগ, ওই মহিলা দাবি করেন, ঋতম নাকি তাঁর দিকে লেজার লাইট ফেলেছিলেন। তা নিয়ে শুরু হয় বচসা, যা ধীরে ধীরে তর্কাতর্কিতে রূপ নেয়। লিফট গ্রাউন্ড ফ্লোরে পৌঁছনোর পর ওই মহিলা চিৎকার শুরু করেন এবং হইচই বাঁধান। পরবর্তীতে আম্বোলি থানায় শ্লীলতাহানির মামলা রুজু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলাটি দায়ের হওয়ার পরই শুরু হয় টাকা তোলার চাপ। অভিযুক্ত দুই মহিলা অভিযোগকারীর পরিবারের কাছে আদালতের বাইরে মামলা মেটানোর নামে ১০ কোটি টাকা দাবি করেন।
২০ ডিসেম্বর, হেমলতা পাটকর অরবিন্দ গোয়ালকে ফোন করে আন্ধেরি ওয়েস্টের একটি ক্যাফেতে দেখা করতে বলেন। সেখানে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়, টাকা না দিলে ছেলেকে সারাজীবন জেলে কাটাতে হবে এবং পরিবারের সম্মান ধুলোয় মিশবে। একাধিক দফা কথাবার্তার পর দাবির অঙ্ক কমিয়ে ৫.৫ কোটি টাকায় নামানো হয়।
এরপর ব্যবসায়ীর সঙ্গে যৌথভাবে মুম্বই পুলিশের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেল ফাঁদ পাতে। অভিযুক্তদের লোয়ার পারেল এলাকায় ডাকা হয়, যেখানে ১.৫ কোটি টাকা নগদ ঘুষ দেওয়ার কথা ছিল। ওই টাকার মধ্যে নকল নোটও রাখা হয়েছিল।
টাকা নিতে আসতেই দুই মহিলাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।
এই তোলাবাজির ঘটনায় উৎকর্ষ নামে এক তৃতীয় অভিযুক্তের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে সে ফেরার। তাকে ধরতে তল্লাশি চলছে এবং গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।