দেশভাগের পর ১৯৫০ সালে শুধু অসমের জন্য চালু হয়েছিল ইমিগ্র্যান্টস এক্সপালশন অ্যাক্ট। ওই আইনে জেলাশাসকদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অসম থেকে বের করে দেওয়ার।

অসমে বিজেপির হাতিয়ার অনুপ্রবেশ
শেষ আপডেট: 31 March 2026 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চেনা অস্ত্রেই অসমে আসন্ন বিধানসভা (Assam Assembly Election 2026) নির্বাচনের বৈতরণী পেরতে চাইছে বিজেপি (BJP)। মঙ্গলবার দলের তরফে নির্বাচনী ইস্তাহার (বিজেপির কথায় সংকল্প পত্র) প্রকাশ করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sharma) জানিয়েছেন, তৃতীয়বার সরকার গড়তে পারলে রাজ্য থেকে ২৪ ঘন্টার নোটিসে বাংলাদেশিদের বের করে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, সরকারি টিকে গেলে অসমে (Assam) অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু করবে বিজেপি সরকার (BJP govt)। আগামী পাঁচ বছরে রাজ্য সরকার দু লক্ষ লোককে চাকরি দেবে বলেও সংকল্প পত্রে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) জন্য ভোটগ্রহণ করা হবে। ২০১৬ সাল থেকে সেখানে ক্ষমতায় বিজেপি। প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sharma) বিজেপিতে যোগ দিয়ে ২০২১-এ দলকে ক্ষমতায় এনে মুখ্যমন্ত্রী হন। প্রথম দিন থেকেই তিনি বাংলাদেশগ অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি খড়গহস্ত।
অসমে বিগত চার দশক যাবত বিজেপি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বিতাড়নকে প্রধান নির্বাচনী হাতিয়ার করে আসছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, মিয়া মুসলিমদের এ রাজ্যে স্থান হবে না।
প্রসঙ্গত অসমে বাংলাভাষী মুসলিমদের মিয়া মুসলিম বলা হয়ে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মঙ্গলবার সংকল্পপত্র ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, তৃতীয় বার সরকার গড়লে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য ছাড়া করতে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে।
কী সেই আইন?
দেশভাগের পর ১৯৫০ সালে শুধু অসমের জন্য চালু হয়েছিল ইমিগ্র্যান্টস এক্সপালশন অ্যাক্ট। ওই আইনে জেলাশাসকদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অসম থেকে বের করে দেওয়ার। মূলত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাসিন্দাদের অসম ছাড়া করতে ওই আইন তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে নাগরিকত্ব বিষয়ক একাধিক আইন চালু হলেও ১৯৫০ সালের আইনটি বাতিল হয়নি।
বিজেপির তরফে মঙ্গলবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে সেই কঠোর আইন এরপর অসমে কার্যকর করা হবে। সবমিলিয়ে অনুপ্রবেশের মতো চেনা অস্ত্রেই এবারও বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করতে চাইছে অসম বিজেপি।
উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী বা এসআইআর কার্যকর না হলেও তালিকা সংশোধনের সময় বিজেপি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে বহু ভোটারের নামে ৭ নম্বর ফর্ম জমা করে। তাদের বিদেশি বলে নালিশ ঠোকে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও এই ব্যাপারে রাজ্যবাসীকে উৎসাহ জোগান। ফলে টানা ১০ বছর ক্ষমতাশীল দল উন্নয়ন তথা এক দশকে কাজের সাফল্যের ফিরস্তির তুলনায় অনুপ্রবেশকেই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার করেছে। বিরোধীদের বক্তব্য, বিজেপি নির্বাচনী সংকল্পপত্র আসলে হিমন্ত সরকারের ব্যর্থতার দলিল।
এর পাশাপাশি হিন্দুত্বের অস্ত্রে শান দিতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর কথা ঘোষণা করেছে অসমের পদ্ম শিবির। নির্বাচনী সংকল্প পত্রে তারা মোট ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। তাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বন্যা মোকাবিলার। প্রতিবছর অসমে বন্যায় হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়, প্রাণ যায় শত শত মানুষের। বিজেপি এবার রাজ্যজুড়ে বন্যা প্রতিরোধে একাধিক মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।