পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণেই মৃত্যু হয়েছে আকিলের। প্রথমে পুলিশও ধরে নেয়, এটি একেবারে স্বাভাবিক মৃত্যু। কিন্তু কয়েকটি ভিডিও এবং এক প্রতিবেশীর অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 October 2025 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলের রহস্যমৃত্যুর (Son Death) ঘটনায় পাঞ্জাবের (Punjab) প্রাক্তন মন্ত্রী (Ex Minister) ও কংগ্রেস নেত্রী (Congress Leader) রাজিয়া সুলতানা এবং তাঁর স্বামী, রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি মহম্মদ মুস্তাফার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কয়েক দিন আগে পঞ্চকুল্লার বাসভবন থেকে ৩৩ বছরের আকিল আখতারকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণেই মৃত্যু হয়েছে আকিলের। প্রথমে পুলিশও ধরে নেয়, এটি একেবারে স্বাভাবিক মৃত্যু (Natural Death)। কিন্তু কয়েকটি ভিডিও এবং এক প্রতিবেশীর অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।
ভিডিও-তে বিস্ফোরক অভিযোগ
অগস্ট মাসে রেকর্ড করা এক ভিডিওয় (Video) আকিল অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী এবং বাবা — দু’জনের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত (Extra Maritial Affair) সম্পর্ক ছিল! আকিলের বক্তব্য, “আমার স্ত্রীর সঙ্গে বাবার সম্পর্কের কথা জানতে পেরে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছি। প্রতিদিন ভয় হয়, ওরা মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবে।'' আকিল আরও বলেন, তাঁর মা রাজিয়া এবং বোনও এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত। তাঁর অভিযোগ, “ওরা আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেবে বা খুন করবে, এই আশঙ্কা সব সময় মনে হয়।”
তাঁর দাবি, বিয়ের আগেই স্ত্রী ও বাবা একে অপরকে চিনতেন। “বিয়ের পর প্রথম দিনই স্ত্রী আমাকে স্পর্শ করতে দেননি। আসলে সে আমাকে নয়, বিয়ে করেছে আমার বাবাকে,” বলেন আকিল।
ভিডিওয় আকিল আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। দাবি করেন, পরিবারের লোকেরা তাঁকে বারবার ‘পাগল' বলে প্রমাণের চেষ্টা করতেন। তাঁর বক্তব্য ছিল - যখনই যুক্তি দিতাম, ওরা কথার বিষয় পাল্টে দিত। শেষে আমাকে রিহ্যাবে পাঠানো হয়। কিন্তু আমি তখন সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলাম।
ভিডিওর এক জায়গায় আকিল বলেন, “আমার সব টাকা নিয়ে নিয়েছে ওরা। কেউ আমাকে সাহায্য করুন, আমাকে বাঁচান।” এমনকী নিজের মেয়ের পিতৃত্ব নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
পরের ভিডিওয় উল্টো সুর
যদিও পরবর্তী সময়ে আরও এক ভিডিওয় আকিল সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলেন। জানান, তিনি স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ায় ভুগছিলেন এবং পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি অসুস্থ অবস্থায় করেছিলেন। সেখানে আকিল বলেন, “আমি অসুস্থ ছিলাম, কিছু বুঝতাম না। এখন সুস্থ। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ, এমন পরিবার পেয়ে।”
তবে ভিডিওর শেষে আবার তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ওরা কি আমাকে মেরে ফেলবে? সবাই বদমাশ।”
পঞ্চকুল্লার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সৃষ্টি গুপ্ত জানান, প্রথমে কোনও অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। কিন্তু এক ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধুর অভিযোগ এবং সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া ভিডিও ও ছবি সন্দেহ জাগিয়েছে। সেই কারণেই এফআইআর দায়ের হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারী শামসুদ্দিন পরিবারটির ঘনিষ্ঠ। তাঁর দেওয়া তথ্য এবং আকিলের ভিডিও-ফুটেজের সত্যতা যাচাই করছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
এখন রাজিয়া সুলতানা, মহম্মদ মুস্তাফা, আকিলের স্ত্রী এবং বোন - এই চারজনের বিরুদ্ধেই তদন্ত চলছে। পুলিশের দাবি, ভিডিওগুলির ফরেনসিক বিশ্লেষণই নির্ধারণ করবে এটি আত্মহত্যা, না পরিকল্পিত খুন।