চন্দননগর থানার পুলিশ খবর পেয়ে গঙ্গায় তল্লাশি শুরু করে। নামানো হয় ডুবুরি। স্পিডবোট নিয়েও তল্লাশি চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, যেখানে কাজ করতেন সেই দোকান কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে লেখা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোকানে গিয়ে অন্যান্য কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। দোকানের মালিক দম্পতি সঞ্জয় ও মমতা দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

শেষ আপডেট: 21 October 2025 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: রেজিস্ট্রি হয়েছে তিন বছর আগে। আগামী ৩ রা ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক বিয়ে। তার আগেই গঙ্গায় ঝাঁপ দিল চন্দননগরের যুবতী।চন্দননগরের বৌবাজার বটতলার বাসিন্দা মানালি ঘোষের (২৫) সঙ্গে বৌবাজার শীতলাতলার বাসিন্দা সত্যজিৎ রায়ের রেজিস্ট্রি বিবাহ হয় বছর তিনেক আগে। গত তিন বছর ধরে চন্দননগর বাগবাজারে জিটি রোডের পাশের একটি জুয়েলারি দোকানে সেলস গার্লের কাজ করতেন। যুবতীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে কর্মস্থলে কোনও সমস্যা দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানান, এরমধ্যে একদিন দোকানের বাইরে তাঁকে কান্নাকাটি করতেও দেখা যায়।
অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে কাজে এসেছিলেন যুবতী। চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন বলে তাকে লিখিয়েও নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই যুবতীকে দোকান থেকে বেরিয়ে কাউকে ফোন করতে দেখা যায়। এরপর চন্দননগর স্ট্যান্ডে গিয়ে কিছুক্ষণ বসেছিলেন। তারপর গঙ্গায় ঝাঁপ মারেন। পরে তাঁরা দেখেন সুইসাইড নোট লিখে মোবাইল ফোনে চাপা দিয়ে রেখেছেন তিনি।
চন্দননগর থানার পুলিশ খবর পেয়ে গঙ্গায় তল্লাশি শুরু করে। নামানো হয় ডুবুরি। স্পিডবোট নিয়েও তল্লাশি চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, যেখানে কাজ করতেন সেই দোকান কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে লেখা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোকানে গিয়ে অন্যান্য কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। দোকানের মালিক দম্পতি সঞ্জয় ও মমতা দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
যুবতীর ভাসুর শুভজিৎ রায় জানান, দোকানে কোনও একটা সমস্যা চলছিল তবে সেটা ঠিক কী তাঁরা বলতে পারবেন না। তিনি বলেন, "এদিন সকালে দোকানে ঝামেলা হয়। তারপর সেখান থেকে ও বেরিয়ে এসে ভাইকে ফোন করেছিল। জানিয়েছিল দোকানের কাজটা আর নেই। ভাই একটি কারখানায় কাজ করে। চন্দননগর স্ট্যান্ডে মানালিকে বসতে বলে। কিন্তু সে যখন পৌঁছায় ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। মানালির বাবা মানস ঘোষের দাবি, যে দোকানে কাজ করতেন মানালি সেখানে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে তাঁকে,তাই এই ঘটনা। তবে দোকানের মালিক মমতা দাসের পাল্টা দাবি, ওই যুবতী মানসিক অবসাদে ভুগছিল। তবে ওই যুবতীর বাবা ও প্রতিবেশীরা তা মানতে চাননি।