নিয়ম অনুযায়ী বেড়েছিল পাইলটদের বিশ্রাম - ৭ দিনের মধ্যে ৩৬ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ঘণ্টা। কিন্তু এই বিধানেই বিপাকে পড়ে ইন্ডিগো (DGCA withdraws weekly rest rule IndiGo crisis)।

শেষ আপডেট: 5 December 2025 15:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর চারদিনের ভয়াবহ ‘মেল্টডাউন’ (IndiGo meltdown) সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত নড়েচড়ে বসল বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)। শুক্রবার জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস (FDTL)–এর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম তুলে নেওয়া হল - যেখানে বলা হয়েছিল, “সাপ্তাহিক বিশ্রামের বদলে অন্য কোনও ধরনের ছুটি নেওয়া যাবে না (DGCA withdraws weekly rest rule IndiGo crisis)।”
নতুন FDTL নিয়মের প্রথম ধাপ চালু হয়েছিল ১ জুলাই এবং দ্বিতীয় ধাপ ১ নভেম্বর (FDTL rule changes)। নিয়ম অনুযায়ী বেড়েছিল পাইলটদের বিশ্রাম - ৭ দিনের মধ্যে ৩৬ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ঘণ্টা। কিন্তু এই বিধানেই বিপাকে পড়ে ইন্ডিগো, যার ফলে গত কয়েকদিন ধরে গোটা সেক্টরে কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে (pilot shortage IndiGo)।
‘অপারেশনাল স্থিতিশীলতার জন্য নিয়ম পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন’ - DGCA
শুক্রবার দুপুরে এক বিবৃতিতে DGCA জানায়, বিভিন্ন বিমান সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সমস্যার নানা দিক বিবেচনা করে এই বিধান প্রত্যাহার করা জরুরি হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নাইট-টাইম ফ্লাইট–এর ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এখন থেকে পাইলটদের বার্ষিক ছুটি ও সাপ্তাহিক বিশ্রাম আলাদা করে ধরার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ, কোনও পাইলট যদি ৪৮ ঘণ্টার ছুটি পান, তা-ই সাপ্তাহিক বিশ্রামের শর্ত পূরণ করবে। ফলে রোস্টার তৈরির ক্ষেত্রে সংস্থাগুলির হাতে কিছুটা বাড়তি স্বাধীনতা মিলবে।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বার বদলাল নিয়ম
এই পরিবর্তনটি DGCA–র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় সংশোধন। ইতিমধ্যেই পাইলটদের টানা উড়ানের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১২ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১৪ ঘণ্টা করেছে DGCA। এই সিদ্ধান্ত থেকেই পরিষ্কার যে, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় একের পর এক জরুরি বদল আনছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
চারদিন ধরে ইন্ডিগোর অপারেশন ধসে পড়েছে
প্রায় ২,২০০-এরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনাকারী ইন্ডিগোর অপারেশন গত চারদিনে কার্যত ভেঙে পড়েছে পাইলট এবং ক্রু–এর ঘাটতির কারণে। সংস্থার স্বীকারোক্তি, নতুন FDTL নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর কত পাইলট প্রয়োজন হবে, তা বড়সড়ভাবে ভুল হিসেব করেছে তারা।
শুধু বৃহস্পতিবারই ৫৫০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা ইন্ডিগোর ইতিহাসে 'একদিনে সবচেয়ে বেশি'। দিল্লি-সহ একাধিক বিমানবন্দরে পুরো দিনের সময়সূচি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
এখন পর্যন্ত মোট প্রায় ১,৩০০ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং সংস্থা নিজেই জানিয়েছে, ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিষেবায় ব্যাঘাত চলতে পারে।
দিল্লি বিমানবন্দরের ঘোষণাতেই টনক নড়ে
শুক্রবার সকালে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। দিল্লি বিমানবন্দর ঘোষণা করে, একেবারে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্ডিগোর সব আউটবাউন্ড ফ্লাইট বাতিল। কিন্তু প্রায় একই সময়ে DGCA সূত্র এনটিভি–কে জানায়, বাতিল হয়েছে কেবল দুপুর ৩টা পর্যন্ত।
এই বিরোধী বার্তাই স্পষ্ট করে দেয়, অপারেশনাল স্তরে ঠিক কতটা সমস্যা চলছে।
চেন্নাই বিমানবন্দরও জানায়, “অপারেশনাল কারণে” চেন্নাই–বেঙ্গালুরু, মুম্বই, দিল্লি, কলকাতা ও হায়দরাবাদ রুটে ইন্ডিগোর বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিকেল ৬টা পর্যন্ত বাতিল।
বাজারে ধস - ইন্টারগ্লোব এভিয়েশনের শেয়ার নেমে গেল
সংকটের প্রভাব পড়ে শেয়ার মার্কেটেও। ইন্ডিগোর হোল্ডিং কোম্পানি ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন লিমিটেড–এর শেয়ার শুক্রবার বাজার খোলার পর ৫,৮৮৩ টাকা থেকে নেমে ৫,৪১৫টাকায় পৌঁছে যায়, তাও মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে।
পাইলটদের সহযোগিতা চাইল DGCA
এদিকে DGCA বিভিন্ন পাইলট সংগঠনকে চিঠি লিখে আবেদন করেছে, ফ্লাইট অপারেশনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করতে। ফগ সিজন, ছুটির ভিড়, বিয়ের মরসুম - সব মিলিয়ে চাপ বেড়েছে, তার ওপর ইন্ডিগোর বিপর্যয় জটিলতা আরও বাড়িয়েছে বলেই উল্লেখ নিয়ন্ত্রক সংস্থার।