ইন্ডিগোর ৫৫০টি বাতিল ফ্লাইটের মধ্যে শুধু দিল্লি বিমানবন্দরের হিসেবেই বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়েছে প্রায় ১৭২টি উড়ান। মুম্বইয়ে ১১৮, বেঙ্গালুরুতে ১০০, হায়দরাবাদে ৭৫, কলকাতায় ৩৫, চেন্নাইয়ে ২৬ এবং গোয়ায় ১১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 December 2025 11:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইন ইন্ডিগোর (Indigo) পরিষেবায় হঠাৎ টানাপড়েন শুরু হওয়ায় গত তিন দিনে দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ২–৪ ডিসেম্বরের মধ্যে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৫০০-রও বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল (Flight Cancelled) হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েন। দীর্ঘ সারি, লাগেজ না পাওয়া, খাবার–জলের অভাব, সব মিলিয়ে বিমানবন্দরগুলি কার্যত বিশৃঙ্খল।
ইন্ডিগোর ৫৫০টি বাতিল ফ্লাইটের মধ্যে শুধু দিল্লি বিমানবন্দরের হিসেবেই বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়েছে প্রায় ১৭২টি উড়ান। মুম্বইয়ে ১১৮, বেঙ্গালুরুতে ১০০, হায়দরাবাদে ৭৫, কলকাতায় ৩৫, চেন্নাইয়ে ২৬ এবং গোয়ায় ১১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। দেশের আরও নানা বিমানবন্দর থেকেও একই ধরনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
হঠাৎ এই বিপর্যয়ে প্রশ্ন ফ্লাইট বাতিল হলে কীভাবে রিফান্ড (How to get Refund) পাবেন? তার জন্য সহজ কিছু নির্দেশিকা মানতে হবে যাত্রীদের -
১. ইন্ডিগোর ওয়েবসাইটে যান এবং নীচে স্ক্রোল করে 'Support' বিভাগে ক্লিক করুন।
২. সেখানে পাওয়া যাবে 'Plan B', যা দিয়ে ফ্লাইট বদলানো, বাতিল বা রিফান্ডের ব্যবস্থা করা যায়।
৩. আপনার PNR/বুকিং রেফারেন্স নম্বর ও ইমেল আইডি/শেষ নাম দিন।
৪. এরপর Change Flight বা Cancel Flight - এই দুইয়ের মধ্যে যেটি প্রয়োজন সেটি বেছে নিন।
চাইলে একই টিকিটে নতুন সময় বা তারিখ বেছে নিতে পারবেন। অথবা সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করে রিফান্ড পেতে পারবেন।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. কখন Plan B ব্যবহার করা যাবে?
আপনি Plan B-এর সুবিধা পাবেন যদি - আপনার ফ্লাইট বাতিল হয়, নির্ধারিত সময়ের থেকে ১ ঘণ্টা বা বেশি আগে ফ্লাইট এগিয়ে আনা হয় অথবা নির্ধারিত সময়ের থেকে ২ ঘণ্টা বা বেশি দেরি হয়।
২. Plan B ব্যবহার করতে কি বাড়তি টাকা লাগবে?
না। ফ্লাইট বদলানো বা বাতিল করার জন্য কোনও অতিরিক্ত চার্জ লাগে না।
৩. রিফান্ড পেতে কত দিন লাগে?
প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সাধারণত ৭ কর্মদিবসের মধ্যে রিফান্ড পাওয়া যায়। যদি কোনও ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বুকিং করা হয়ে থাকে, তবে রিফান্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।
এত বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দেশের একাধিক বিমানবন্দরে দেখা গেছে চরম বিশৃঙ্খলার (Chaos) ছবি। কোথাও রাগে ফেটে পড়ছেন যাত্রীরা, কোথাও হাজার হাজার লাগেজ ব্যাগ (Luggage Bags) ছড়িয়ে-ছিটিয়ে, কোথাও আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার–জল ছাড়াই (Food and Water) অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। কেউ বলছেন 'মানসিক নির্যাতন', কেউ বলছেন 'সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা'। আর অধিকাংশেরই অভিযোগ, ইন্ডিগোর (Indigo) কাছ থেকে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মিলছে না।
ইন্ডিগো স্বীকার করেছে যে নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL)–এর দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার পরে সংস্থার ক্রু-চাহিদা বেড়ে গেছে। আদালতের নির্দেশে ১ নভেম্বর চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাতের ডিউটির (Night Duty) সংজ্ঞা বদলে যাওয়া এবং পাইলটদের ডিউটি (Pilot Duty) সময়ের কঠোর সীমাবদ্ধতা রোস্টারকে আরও চাপের মুখে ফেলে।
ইন্ডিগো প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৩০০ ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং দীর্ঘদিন ধরে সময়ের ডেডলাইন (Time Bound) বজায় রাখাই তাদের পরিচয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার এই হার নেমে আসে মাত্র ১৯.৭ শতাংশে, যেখানে মঙ্গলবারের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী দু’তিন দিন আরও ফ্লাইট বাতিলের সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছে সংস্থা।