নির্ধারিত দিনে নিজের পৌঁছতে না পেরে শেষমেশ ভিডিও কলেই রিসেপশন (Reception Party) সারলেন দুই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নবদম্পতি।

অনলাইনে বিয়ে সারলেন নবদম্পতি
শেষ আপডেট: 5 December 2025 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে ইন্ডিগো–র (Indigo Flight) একশোর বেশি ফ্লাইট বাতিলের জেরে আচমকাই নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হল কর্নাটকের (Karnataka) হুব্বলিতে। নির্ধারিত দিনে নিজের পৌঁছতে না পেরে শেষমেশ ভিডিও কলেই রিসেপশন (Reception Party) সারলেন দুই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নবদম্পতি।
হুব্বলির মেধা ক্ষীরসাগর ও ভুবনেশ্বরের সংগমা দাস— দু’জনেই বেঙ্গালুরুতে কর্মরত। ২৩ নভেম্বর ভুবনেশ্বরে (Bhubaneswar) বিয়ের পরে ৩ ডিসেম্বর কনের বাড়ি হুব্বলিতে গুজরাত ভবনে (Gujarat Bhawan) ছিল আনুষ্ঠান।
কিন্তু রিসেপশনের আগের রাত থেকেই ইন্ডিগোর বিমানের জন্য ঝক্কি (Indigo Flight Cancelled) পোহানো শুরু হয়। ভুবনেশ্বর–বেঙ্গালুরু হয়ে হুব্বলি পৌঁছনোর যে ফ্লাইট ধরার কথা ছিল নবদম্পতির, তা বারবার বিলম্বের পরে শেষমেশ ভোর ৪টেয় ‘বাতিল’ বলে ঘোষণা করে ইন্ডিগো। ভুবনেশ্বর–মুম্বই–হুব্বলি রুটে যাতায়াত করা বেশ কয়েকজন আত্মীয়ও একই দুর্ভোগের শিকার হন। রিসেপশনের সমস্ত আয়োজন তৈরি। অতিথিরাও হাজির। এদিকে নবদম্পতি আটকে ভুবনেশ্বরে।
শেষমেশ কনের মা–বাবা বসেন মণ্ডপে তৈরি দম্পতির নির্দিষ্ট আসনে। সম্পন্ন করেন বরণ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান। আর দিব্যি সাজপোশাকে নবদম্পতি— বহু দূরে ভুবনেশ্বর থেকে ভিডিও কলে যোগ দেন তাতে। অনুষ্ঠানস্থলের বড় পর্দায় ভেসে ওঠে তাঁদের উপস্থিতি।
কনের মা বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম কোনও ভাবে ওরা পৌঁছে যাবে। কিন্তু রাতেই ফ্লাইট বাতিলের খবর আসে। এত আত্মীয়–স্বজনকে ডাকা হয়েছে, শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান বাতিল করা অসম্ভব। আলোচনা করে ঠিক করি— রিসেপশন হবে, নবদম্পতি না হয় অনলাইনেই থাকুক।”
ইন্ডিগোর জন্য দেশজুড়ে ভোগান্তি
নতুন ফ্লাইট ডিউটি নর্মস (FDTL)–এর দ্বিতীয় দফা নিয়ম চালু হওয়ায় ইন্ডিগোর রোস্টার পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছে বড়সড় গলদ— স্বীকার করেছে সংস্থা নিজেই। এর জেরেই চলতি সপ্তাহে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই-সহ একাধিক শহরে বাতিল হচ্ছে শতাধিক ফ্লাইট।
বৃহস্পতিবার একদিনে ৫০০–রও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সংস্থার ২০ বছরের ইতিহাসে যা সর্বাধিক। ইন্ডিগোর দাবি, ২,২০০ দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা করা এই সংস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ফেব্রুয়ারি ১০ পর্যন্ত সময় লাগবে। ততদিন চলবে পরিষেবা কমানো। ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও বহু ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে DGCA–কে।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পরিকল্পনার ভুল ও হিসেব–নিকেশের ঘাটতির কারণেই এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।