কুকুর দু'টি ছিল নাফিস আহমেদ নামের এক ব্যক্তির, যিনি দুটি কুকুরকে তাঁর বন্ধু মহম্মদ জায়েদের বাড়িতে রেখেছিলেন। ঘটনার সময় জায়েদ বাড়িতে ছিলেন না, শুধু তাঁর পরিচারিকা বাড়িতে ছিলেন, যিনি পরে কুকুরগুলিকে কোনও মতে ঘরে নিয়ে আসেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 July 2025 12:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুকুরের হামলায় গুরুতর জখম ৬৬ বছরের প্রৌঢ়া। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি। অবস্থা আশঙ্কাজনক। রবিবার ভোরে দেরাদুনের রাজপুর এলাকার গলিতে প্রৌঢ়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দুটি রটউইলার (Rotwiller Attack old woman)।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় কুকুরগুলি পাঁচিল টপকে বাড়ির বাইরে চলে আসে। সেইসময়েই কৌশল্যাদেবী রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। আচমকাই তাঁর ঝাঁপিয়ে পড়ে আক্রমণ চালায়। এই ঘটনায় তাঁর মাথায়, হাত-পা'য় গভীর চোট লেগেছে। কুকুরের হামলায় ছিঁড়ে গিয়েছে কান (Rotwiller Attack old woman)। এমনকি শরীরের দু’টি হাড়ও ভেঙেছে বলে জানা গিয়েছে। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে (Hospital) নিয়ে যাওয়া হয়। আহত বৃদ্ধার শরীরে প্রায় ২০০টি সেলাই (200 Stitch) পড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
প্রথমে তাঁকে শ্রী মহন্ত ইন্দ্রেশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে অস্ত্রোপচারের জন্য অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর কানের একটা বড় অংশ হামলায় প্রায় ছিঁড়ে গিয়েছিল।
কুকুর দু'টি ছিল নাফিস আহমেদ নামের এক ব্যক্তির, যিনি দুটি কুকুরকে তাঁর বন্ধু মহম্মদ জায়েদের বাড়িতে রেখেছিলেন। ঘটনার সময় জায়েদ বাড়িতে ছিলেন না, শুধু তাঁর পরিচারিকা বাড়িতে ছিলেন, যিনি পরে কুকুরগুলিকে কোনও মতে ঘরে নিয়ে আসেন।
নাফিস আহমেদকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জায়েদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ধারায় ২৯১ নম্বর ধারায় (অবহেলার মাধ্যমে পশুদের বিপজ্জনকভাবে রাখা) মামলা রুজু হয়েছে।
কৌশল্যাদেবীর ছেলে উমং নিরওয়াল রাজপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নাফিসের কাছে দেরাদুন পুরসভার লাইসেন্স ছিল না যা এমন বিপজ্জনক প্রজাতির কুকুর পোষার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। পুলিশ জানিয়েছে, কৌশল্যা দেবীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও ফৌজদারি ধারা যুক্ত করা হতে পারে।
দেরাদুনের (Dehradun dog attacked) এসএসপি অজয় সিং বলেন, 'কেন্দ্রের তরফে ইতিমধ্যেই এমন বিপজ্জনক প্রজাতির কুকুরের ক্ষেত্রে আমদানি, প্রজনন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে রটউইলার, কাইন কোরসো, পিটবুল, কাঙ্গাল, ডোগো আর্জেন্টিনো এবং উলফডগ।'
পুলিশ ও পুরসভার তরফে সাধারণ মানুষকে জানানো হয়েছে, যদি আশেপাশে এই প্রজাতির কুকুর কেউ পোষে এবং সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বা পুরসভার দফতরে অভিযোগ জানাতে পারেন।
এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর সঞ্জয় নওটিয়াল এবং বাসিন্দারা দেরাদুনের মেয়র ও পুলিশের কাছে গিয়ে নাফিস ও জায়েদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই একই কুকুর অতীতেও একাধিকবার মানুষকে আক্রমণ করেছে। তখন নাফিস অভিযোগকারীদের ভয় দেখিয়ে বা টাকার বিনিময়ে বিষয় মিটিয়ে ফেলতেন। এবারেও তিনি বলেছিলেন, 'যা পারো করে নাও!'