পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। শহরের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

কটকে ব্যাপক সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর
শেষ আপডেট: 5 October 2025 23:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে শনিবার গভীর রাতে কটকে ব্যাপক সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। শহরের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে, প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে সোমবার ১২ ঘণ্টার বন্ধ ডেকেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)।
শনিবার রাত দেড়টা থেকে দু’টার মধ্যে কটকের দারগাবাজারের হাতিপোখরির কাছে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় সংঘর্ষ বাধে। শোভাযাত্রাটি দেবীগড়া ঘাটের দিকে যাচ্ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শোভাযাত্রায় বাজানো উচ্চ শব্দে সঙ্গীত নিয়ে কিছু স্থানীয় মানুষ আপত্তি জানান। সেই নিয়ে তর্কাতর্কি থেকে বচসা, এবং তার পরই একদল দুষ্কৃতী ছাদ থেকে পাথর ও বোতল ছুড়তে শুরু করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন, তাঁদের মধ্যে কটকের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) খিলাড়ি ঋষিকেশ দ্যানদেও-ও রয়েছেন।
অবস্থা সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। বেশ কিছু গাড়ি ও রাস্তার দোকানপাট ভাঙচুর হয়। বিসর্জন প্রক্রিয়া প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সকাল সাড়ে ন’টার মধ্যে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়।
ঘটনার পর বিভিন্ন পূজা কমিটির সদস্যরা অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অভিযোগ তোলে, প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ডিসিপি ও জেলাশাসক - দু’জনকেই সরাতে হবে।
ভিএইচপি-র মুখপাত্র বলেন, “প্রশাসনকে আমরা বারবার সতর্ক করেছিলাম শান্তিপূর্ণ বিসর্জনের জন্য ব্যবস্থা নিতে, কিন্তু কিছুই করা হয়নি।” সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধের ডাক দেওয়া হয়।
বিজু জনতা দল (বিজেডি) এই ঘটনাকে ‘অসামাজিক চক্রান্ত’ বলে বর্ণনা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মজিহি আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
বিজেডি সাংসদ সুলতা দেউ বলেন, “কটক সর্বদা সম্প্রীতির শহর। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান - সবাই মিলেমিশে থাকে। এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অপরাধের হার বেড়েছে।”
সহকারী দমকল আধিকারিক সঞ্জীব কুমার বেহেরা জানিয়েছেন, “গৌরীশঙ্কর পার্কের কাছে ৮-১০ জায়গায় দুষ্কৃতীরা আগুন লাগিয়েছে। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি, কিন্তু আমাদের ওপরও পাথর ছোঁড়া হয়েছে।”
ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকেরা সরেজমিনে পরিস্থিতি নজরদারি করছেন।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রবিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কটক শহরে সমস্ত ইন্টারনেট ও ডেটা পরিষেবা যেমন WhatsApp, Facebook, Instagram, X—স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর।
অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সত্যব্রত সাহুর স্বাক্ষরিত নির্দেশে বলা হয়, ১৮৮৫ সালের ইন্ডিয়ান টেলিগ্রাফ অ্যাক্টের ৫(২) ধারা ও ২০১৭ সালের টেলিকম সার্ভিস সাসপেনশন রুলস অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিভিন্ন অসামাজিক উপাদান ইন্টারনেটের মাধ্যমে উস্কানিমূলক ও ভুয়ো বার্তা ছড়াতে পারে, যা জনশান্তি বিঘ্নিত করবে।”
ইন্টারনেট স্থগিতাদেশের আওতায় রয়েছে কটক মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, কটক ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ও ৪২ মৌজা অঞ্চল।
এখনও পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে, বিশেষ করে সোমবার ভিএইচপি-র বন্ধ ঘিরে যাতে নতুন করে অশান্তি না ছড়ায়।