পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে বরেলি-সহ আশপাশের চার জেলায়। শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোবাইল ডেটা, ব্রডব্যান্ড, ওয়াই-ফাই—সব ধরনের ইন্টারনেট ও এসএমএস পরিষেবা বন্ধ থাকবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 October 2025 12:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বরেলিতে ‘আই লাভ মহম্মদ’ (I Love Muhammad Row) বিতর্ক ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই সমাজবাদী পার্টির (Samajwadi Party) প্রতিনিধি দলকে শহরে ঢুকতে দিল না পুলিশ। দলের সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের (Akhilesh Yadav) নির্দেশে লখনউ থেকে বরেলির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে পুলিশ আটকে দেয় ১৪ সদস্যের ওই প্রতিনিধিদলকে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা মাতা প্রসাদ পাণ্ডে অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন ইচ্ছে করে তাঁদের মিছিল (Rally) রুখে দিয়েছে। তাঁর কথায়, “প্রথমে আমাকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়, পরে সেটি সংশোধন করা হলেও আমরা বেরোতেই পুলিশ আমাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। এভাবে বাধা দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও গণতন্ত্রবিরোধী। সংবিধান আমাদের যে অধিকার দিয়েছে, তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।” এদিকে, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জিয়াউর রহমানকেও সাম্ভলে গৃহবন্দি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তাঁর বাড়ির বাইরে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।
গোটা ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী (Uttar Pradesh Deputy CM) কেশব প্রসাদ মউর্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “অখিলেশ যাদবের বরেলিতে প্রতিনিধিদল পাঠানো শিশুসুলভ পদক্ষেপ। সমাজবাদী পার্টি সব সময় তোষণের নোংরা রাজনীতি করেছে। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এসপি-র পরাজয় নিশ্চিত।”
তিনি আরও বলেন, “সংঘাত ছাড়া শান্তিপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ গঠনই আমাদের সাফল্যের চিহ্ন। সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের পরিচয় - যা সমাজবাদী পার্টি মেনে নিতে পারে না।”
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ‘আই লাভ মহম্মদ’ (I Love Muhammad Row) পোস্টার ঘিরে যে বিতর্ক তাতেই বরেলিতে হিংসা ছড়ায়। নামাজের পর মসজিদের বাইরে প্রায় দু’হাজার জন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় ৮১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে বরেলি-সহ আশপাশের চার জেলায়। শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোবাইল ডেটা, ব্রডব্যান্ড, ওয়াই-ফাই—সব ধরনের ইন্টারনেট ও এসএমএস পরিষেবা বন্ধ থাকবে। প্রশাসনের দাবি, ভুয়ো খবর রটানো ও সামাজিক মাধ্যমে উসকানি রুখতেই এই পদক্ষেপ।
শুধু ইন্টারনেট বন্ধ নয়, গোটা শহরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, পিএসি ও র্যাফ নামানো হয়েছে রাস্তায়। আকাশে নজরদারিতে ড্রোনও ব্যবহার করছে প্রশাসন।
বরেলিকে ভাগ করা হয়েছে চারটি সুপার জোন ও চারটি বিশেষ জোনে। প্রতিটি অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, নামাজ শেষে ধর্মীয় নেতাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে ধর্মীয় নেতা তৌকির রাজা খান ‘আই লাভ মহম্মদ’ প্রচারের সমর্থনে মিছিল ডাকেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি ঘোষণা করেন, অনুমতি না মেলায় মিছিল বাতিল। তাতেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে জনতা। শুরু হয় পাথর ছোড়া ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ।