রবিবারের মধ্যে এই শান্তিচুক্তি মেনে না নিলে হামাসের জন্য নরকের দরজা খুলে দিয়ে কবর খোঁড়ার শর্ত আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প।

হামাস গোষ্ঠী ২০ দফা শান্তিচুক্তির সমস্ত শর্ত মেনে নেয়নি।
শেষ আপডেট: 4 October 2025 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোবেল শান্তি পুরস্কার মুঠোয় পুরতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই লক্ষ্যে তাঁর তৈরি একতরফা শান্তিচুক্তিতে নিমরাজি হয়েছে প্যালেস্তিনীয় হামাস গোষ্ঠী। কারণ, রবিবারের মধ্যে এই শান্তিচুক্তি মেনে না নিলে হামাসের জন্য নরকের দরজা খুলে দিয়ে কবর খোঁড়ার শর্ত আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের নিজের প্রচার মাধ্যম ও ইজরায়েলি সংবাদ মাধ্যমে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের প্রভূত প্রশংসা চলতে থাকলেও হামাস গোষ্ঠী ২০ দফা শান্তিচুক্তির সমস্ত শর্ত মেনে নেয়নি।
ট্রাম্পের ফন্দির বেশ কিছু অংশ মেনে নিয়েছে প্যালেস্তিনীয় জঙ্গি দল। যার মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে, ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করে অস্ত্র সংবরণ করা। কিন্তু, হামাসের বিবৃতিতে পরিষ্কার মতানৈক্য প্রকাশ করা হয়েছে, প্যালেস্তাইন ও গাজা ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের প্রকৃত মতলব।
২০ দফা এই চুক্তিতে ট্রাম্পের নজর হচ্ছে, আফগানিস্তানের মতোই যুদ্ধ পরবর্তী প্যালেস্তিনীয় অঞ্চলে একটি নামে অস্থায়ী বকলমা মার্কিন মদতপুষ্ট প্রশাসন গড়ে তোলা। তবে এবার স্থানীয় নেতাদের হাতে দায়িত্ব না তুলে দিয়ে অস্থায়ী প্রশাসনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টোনি ব্লেয়ার।
এই চুক্তিকে দুই পক্ষই গ্রহণ করলে ইজরায়েল ও হামাস জঙ্গিদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের অবসান ঘটবে। দুপক্ষের বন্দি বিনিময় হবে (জীবিত অথবা মৃত)। হামাস জানিয়েছে, ইজরায়েলি বন্দিদের তারা মুক্ত করবে। তবে বিনিময় শর্ত প্রয়োগের আগে তারা প্রয়োজনীয় বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নেবে। এই প্রয়োজনীয় বাস্তব পরিস্থিতি কী তা খোলসা করেনি হামাস গোষ্ঠী। যদিও মধ্যস্থকারীর মাধ্যমে দ্রুত আলোচনায় বসতে রাজি তারা।
এই অবস্থায় ট্রাম্প বুক বাজিয়ে যুদ্ধ শেষের ঘণ্টা বাজাতে থাকলেও হামাসরা কিন্তু এখনও সব শর্ত মেনে নেয়নি। বিশেষত কবে, কখন, কোথায়, কীভাবে বন্দি প্রত্যর্পণ হবে সে সময়ও নির্দিষ্ট করেনি। মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশর ও কাতার হামাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাজি হওয়াতে খুশি ব্যক্ত করছে। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প হানাদার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, তা শেষমেশ আগামিদিনে হামাসের ধোঁকাবাজিতে পরিণত হতে পারে। এখন এটা নির্ভর করছে হামাসেরই উপর। হয় বন্দিদের মুক্ত অবস্থায় বের করতে হবে, নয়তো নতুন যুদ্ধ শুরু হবে। আপাতত সেই অপেক্ষাতেই শ্বাস বন্ধ করে রেখেছে সব পক্ষই।