এখন যা ঘটে গিয়েছে, তা সত্যিই বেনজির ঘটনা। একথা লিখে জয়রাম রমেশ বলেছেন, ইস্তফা দেওয়ার জন্য তিনি স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়েছেন। ফলে তাঁর কথারই মান্যতা দেওয়া উচিত। কিন্তু, এটাও সত্যি যে, তাঁর পদত্যাগের আড়ালে গভীর কোনও কারণ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম না করে প্রচ্ছন্নভাবে তাঁকেই নিশানায় বিঁধেছেন জয়রাম রমেশ।
শেষ আপডেট: 22 July 2025 11:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘অপমানিত ও ব্যথিত’ হয়েই কি উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জগদীপ ধনকড়? যে ঘটনা ভারতের ইতিহাসে কখনও ঘটেনি। তাই ঘটিয়ে দেখিয়ে দিলেন কেবলমাত্র আত্মসম্মানবোধ জিইয়ে রাখতে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও প্রচার তত্ত্বাবধায়ক সাংসদ জয়রাম রমেশ প্রচ্ছন্নে এই সন্দেহই প্রকাশ করলেন মঙ্গলবার। এদিন ভোর ভোর এক এক্সবার্তায় রমেশ সোমবারের ঘটনার ইতিপূর্ব ঘটনাবলির কথা তুলে ধরেন।
রমেশ লিখেছেন, গতকাল (সোমবার) শ্রীজগদীপ ধনকড় দুপুর সাড়ে ১২টার সময় রাজ্যসভায় বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির (সভা কার্যাবলি নিরূপক কমিটি) একটি বৈঠকে পৌরোহিত্য করেন। সেখানে প্রায় সব সদস্য সহ রাজ্যসভার নেতা জেপি নাড্ডা ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও উপস্থিত ছিলেন। কিছু আলোচনার পর কমিটি ফের বিকেল সাড়ে ৪টের সময় মিলিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
জয়রাম রমেশ দীর্ঘ এই বার্তায় লেখেন, বিকেল সাড়ে ৪টের সময় বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি ফের মিলিত হয়। যথারীতি প্রথা অনুযায়ী রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকড়েই পৌরোহিত্য করার কথা। তিনিও ছিলেন। কিন্তু, ওই বৈঠকে তিনি জেপি নাড্ডা ও রিজিজুর জন্য অপেক্ষা করলেও তাঁরা আসেননি। রমেশের দাবি, এই কমিটির দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তাঁদের না আসতে পারার কথা ব্যক্তিগতভাবে জানাননি ধনকড়কে। সরকারের তরফের দুজন পদস্থ মন্ত্রী তাঁর ডাকা বৈঠকে আসবেন না, তা তাঁকে জানানো হয়নি।
Yesterday, Shri Jagdeep Dhankar chaired the Business Advisory Committee of the Rajya Sabha at 12:30 PM. It was attended by most members, including Leader of the House JP Nadda and the Minister of Parliamentary Affairs Kiren Rijiju. After some discussion, the BAC decided to meet…
— Jairam Ramesh (@Jairam_Ramesh) July 22, 2025
জয়রাম রমেশ সন্দেহ প্রকাশ করে লিখেছেন, এ কারণেই উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকড় অপমানিত হন। এবং আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায় ফের বৈঠক ডেকেছিলেন। রমেশের দাবি, ফলে গতকাল (সোমবার) দুপুর ১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টের মধ্যে বিরাট কিছু নিশ্চই ঘটে গিয়েছিল। নাড্ডা ও রিজিজুর মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের ইচ্ছাকৃত গরহাজিরার দায় বর্তায় প্রধানমন্ত্রীর উপর। কারণ, প্রথমটিতে তাঁরা হাজির থাকলেও দ্বিতীয় বৈঠকে কেন অনুপস্থিত থাকলেন এবং তাও উপরাষ্ট্রপতির মতো ব্যক্তিকে আগাম কারণ না জানিয়ে।
এখন যা ঘটে গিয়েছে, তা সত্যিই বেনজির ঘটনা। একথা লিখে জয়রাম রমেশ বলেছেন, ইস্তফা দেওয়ার জন্য তিনি স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়েছেন। ফলে তাঁর কথারই মান্যতা দেওয়া উচিত। কিন্তু, এটাও সত্যি যে, তাঁর পদত্যাগের আড়ালে গভীর কোনও কারণ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম না করে প্রচ্ছন্নভাবে তাঁকেই নিশানায় বিঁধে রমেশ লিখেছেন, ২০১৪ পরবর্তী ভারতে তিনি ভয়ভীতিহীনভাবে কৃষকদের উন্নয়নের কথা জোর গলায় বলে গিয়েছেন। জনতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। জোরাল ভাষায় বিচার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কথা বলেছেন।
अभी 10 जुलाई को ही उपराष्ट्रपति जगदीप धनकड़ ने कहा था कि वो अगस्त 2027 में रिटायर करेंगे subject to divine intervention. मतलब अगस्त 2027 के पहले उसी हालत में जब कोई दैवीय हस्तक्षेप हो जाए। pic.twitter.com/GLUh97DhKz
— Sukesh Ranjan (@RanjanSukesh) July 22, 2025
মোদী ও অমিত শাহের নাম না করে চলতি জি টু (গ্রুপ টু) জমানার বিরুদ্ধেও তিনি বিরোধীদের জায়গা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাই জগদীপ ধনকড়ের ইস্তফা যেমন তাঁর কাছেও বিরাট একটা ব্যাপার। তেমনই যাঁরা তাঁকে উপরাষ্ট্রপতি পদে জিতিয়ে এনেছিলেন তাঁদের কাছে অত্যন্ত খারাপ এই কারণে যে, তিনিই দেশের কাছে একটা নজির গড়ে গেলেন।