আবহাওয়া দফতরের (Weather Forecast) পূর্বাভাস, জম্মুর কাঠুয়া, সাম্বা, দোদা, রামবান ও কিশ্তোয়ার জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসন ঘোষণা করেছে, সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুলই আপাতত বন্ধ থাকবে।

জম্মু-কাশ্মীরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়!
শেষ আপডেট: 26 August 2025 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের প্রাকৃতিক বিপর্যয় জম্মু কাশ্মীরে (Cloud Burst at Jammu and Kashmir)। দোদা জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বিস্তীর্ণ এলাকা। ভেসে গিয়েছে বহু ঘর-বাড়ি। এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।ইতিমধ্যেই জম্মুর বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছিল আবহাওয়া দফতর।
আবহাওয়া দফতরের (Weather Forecast) পূর্বাভাস, জম্মুর কাঠুয়া, সাম্বা, দোদা, রামবান ও কিশ্তোয়ার জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসন ঘোষণা করেছে, সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুলই আপাতত বন্ধ থাকবে।
ভারী বৃষ্টির (Heavy Rain Forecast) কারণে জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে যান চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। আশঙ্কাজনক ভূমিধসের জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নদীর জল উপচে পড়ায় দোদার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভেসে গিয়েছে।
জম্মুতে নদীগুলি ইতিমধ্যেই বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিভিন্ন নদী-নালায় জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে এবং রাতভর আরও বাড়তে পারে। এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক বলেন, “জম্মু অঞ্চলে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মানুষকে নদী-খাল, জলাশয় ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
গত ২৪ ঘণ্টায় কাঠুয়া জেলায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে, ১৫৫.৬ মিমি। জম্মুতে ৮১.৫ মিমি এবং কাটরায় ৬৮.৮ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছে, অন্তত ২৭ অগস্ট পর্যন্ত উঁচু অঞ্চলে আবারও মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
গত সপ্তাহের শেষে জম্মুতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ১৯০.৪ মিমি। অগস্ট মাসে এটি গত এক শতাব্দীতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছিল ১৯২৬ সালের ৫ অগস্ট, ২২৮.৬ মিমি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল ২০২২ সালের ১১ অগস্ট, ১৮৯.৬ মিমি।
কাশ্মীর উপত্যকার দক্ষিণ জেলাগুলিতে মঙ্গলবার মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। উঁচু অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ রেকর্ড করা হয়েছে। তবে ঝেলম নদীর জন্য বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়নি। জলস্তর বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্য কাশ্মীরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, আর উত্তর কাশ্মীরে হালকা বৃষ্টি কিংবা শুষ্ক আবহাওয়া ছিল বলে জানানো হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগেই কিস্তওয়ারে মেঘভাঙা বৃষ্টির (Cloudburst) জেরে বড়সড় বিপর্যয় ঘটেছে। সরকারি হিসেবে ৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই ফের বিপর্যয়ের মুখে জম্মু-কাশ্মীর।